সব বিমানবন্দরে আধুনিক পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে বেবিচকের উদ্যোগ
দেশের সব বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড়োজাহাজের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় ধরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির লক্ষ্য আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি সচল বিমানবন্দরে একটি কার্যকর ও আধুনিক পাখি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও জোরদার করা হবে।
বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানান, দেশের আটটি বিমানবন্দরের চাহিদা যাচাই করে ২৬টি আধুনিক পাখি তাড়ানোর বন্দুক সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয়টি, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারে চারটি করে এবং রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরে দুটি করে বন্দুক মোতায়েন করা হবে। বর্তমানে বেবিচকের ১১টি বন্দুক থাকলেও তার মধ্যে মাত্র দুটি কার্যকর রয়েছে। নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি পুরনো যন্ত্রপাতির লাইসেন্স নবায়নের কাজও চলছে।
পাখি নিয়ন্ত্রণে জনবল সংকট দূর করাও বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে মাত্র ১০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে মাত্র চারজন কর্মী কাজ করছেন, অথচ প্রয়োজন ৬৪ জন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের প্রতিটি বিমানবন্দরে ১১ জন করে এবং অন্য চারটি বিমানবন্দরে পাঁচজন করে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এ কাজে সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া শাহজালালের আদলে অন্যান্য বিমানবন্দরেও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে পাখি সংঘর্ষের ২১২টি ঘটনা ঘটেছে। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৩৯টি। এর মধ্যে শুধু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই চলতি বছর ১৬৮টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা গত বছরের মোট ১৫৭টি ঘটনার চেয়ে বেশি। শীতে পাখির উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কায় দ্রুত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চায় বেবিচক। পাশাপাশি বিমানবন্দরের আশেপাশে ঝবঝাড় পরিষ্কার ও বর্জ্য অপসারণে স্থানীয় সরকারের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে, যাতে পাখির সমাগম কমানো সম্ভব হয়।

























