4:30 pm, Saturday, 31 October 2026

ভাঙা আঙুল নিয়ে বিশ্বকাপ খেলেন মার্তিনেজ, হাতে স্থায়ী ক্ষতি

২০২৬ সালের মে মাসে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ফ্রাইবুর্গের বিরুদ্ধে ইউরোভিশন ম্যাচের আগের ওয়ার্ম-আপে ডান হাতের অনামিকা আঙুল ভেঙে যায় এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয়ের পর চিকিৎসকরা জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অস্ত্রোপচার অপরিহার্য। তবে সে সময় অস্ত্রোপচার করালে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। তাই আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামার জন্য তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ এড়িয়ে যান এবং চোট চেপে খেলাই বেছে নেন। আঙুলের ক্ষত শুরু ২০২৬ সালের মে মাসে। এবার সেই ম্যাচ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। তার অনামিকা আঙুল আংশিক খোলা থেকে যায়। আস্টন ভিলার সঙ্গে ফ্রাইবুর্গের ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে মার্তিনেজ ওয়ার্ম-আপ করছিলেন। পরে বিশেষজ্ঞরা তাকে জানান, ঠিকমতো সুস্থ হতে হলে অস্ত্রোপচার দরকার। কারণ, তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য প্রস্তুত থাকতে চেয়েছিলেন। অস্ত্রোপচার না করলে আঙুল স্বাভাবিকভাবে জোড়া লাগবে না।

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট জুড়ে হাতে বিশেষ স্প্লিন্ট ও পরিবর্তিত গ্লাভস পরে মাঠে নেমেছিলেন এই আর্ゼンটাইন গোলরক্ষক। শুরুতে কিছুদিন আলাদাভাবে অনুশীলন করলেও স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনোদের একের পর এক শট ঠেকিয়ে ম্যাচটিতে মোট ১১টি সেভ করেন তিনি। তবে একা লড়েও দলকে জেতাতে পারেননি, ম্যাচটি ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, মিকেল মেরিনোদের শট একে একে ১১ বার সেভ করেছিলেন তিনি। প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে হাতে সুরক্ষামূলক স্প্লিন্ট বা বদলানো গ্লাভ পরে খেলেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক জানান, পুরো টুর্নামেন্টেই তিনি ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলেছেন। সেই সাথে ভিডিওতে নিজের ডান হাতের অনামিকা আঙুলটি দেখিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে সেটি এখন আর পুরোপুরি বন্ধ হয় না। স্থানচ্যুত হাড় অন্য জায়গায় জোড়া লাগায় চিরতরে এমন ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। হালকা রসিকতার ছলে মার্তিনেজ মন্তব্য করেন, জীবনের বাকি সময় এভাবেই কাটাতে হবে এবং তিনি আর কাউকে শক্ত করে ঘুষিও মারতে পারবেন না। সেখানে ভিডিওতে তিনি দেখিয়েছেন ব্যাপারটি। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, আঙুলটি সরে গিয়েছিল আর ভেঙেও গিয়েছিল।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ক্লিন শিট বজায় রাখাসহ পুরো অভিযানে দুর্দান্ত খেললেও অস্ত্রোপচার না করানোর সিদ্ধান্তটি তার জন্য চিরস্থায়ী শারীরিক সমস্যা তৈরি করেছে। চোটের ওপর ভর করে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কারণেই তার হাতের এই ক্ষতি পুরোপুরি আর ভালো করা সম্ভব নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 09:34:31 am, Saturday, 31 October 2026

ভাঙা আঙুল নিয়ে বিশ্বকাপ খেলেন মার্তিনেজ, হাতে স্থায়ী ক্ষতি

Update Time : 09:34:31 am, Saturday, 31 October 2026

২০২৬ সালের মে মাসে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ফ্রাইবুর্গের বিরুদ্ধে ইউরোভিশন ম্যাচের আগের ওয়ার্ম-আপে ডান হাতের অনামিকা আঙুল ভেঙে যায় এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয়ের পর চিকিৎসকরা জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অস্ত্রোপচার অপরিহার্য। তবে সে সময় অস্ত্রোপচার করালে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। তাই আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামার জন্য তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ এড়িয়ে যান এবং চোট চেপে খেলাই বেছে নেন। আঙুলের ক্ষত শুরু ২০২৬ সালের মে মাসে। এবার সেই ম্যাচ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। তার অনামিকা আঙুল আংশিক খোলা থেকে যায়। আস্টন ভিলার সঙ্গে ফ্রাইবুর্গের ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে মার্তিনেজ ওয়ার্ম-আপ করছিলেন। পরে বিশেষজ্ঞরা তাকে জানান, ঠিকমতো সুস্থ হতে হলে অস্ত্রোপচার দরকার। কারণ, তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য প্রস্তুত থাকতে চেয়েছিলেন। অস্ত্রোপচার না করলে আঙুল স্বাভাবিকভাবে জোড়া লাগবে না।

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট জুড়ে হাতে বিশেষ স্প্লিন্ট ও পরিবর্তিত গ্লাভস পরে মাঠে নেমেছিলেন এই আর্ゼンটাইন গোলরক্ষক। শুরুতে কিছুদিন আলাদাভাবে অনুশীলন করলেও স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনোদের একের পর এক শট ঠেকিয়ে ম্যাচটিতে মোট ১১টি সেভ করেন তিনি। তবে একা লড়েও দলকে জেতাতে পারেননি, ম্যাচটি ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, মিকেল মেরিনোদের শট একে একে ১১ বার সেভ করেছিলেন তিনি। প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে হাতে সুরক্ষামূলক স্প্লিন্ট বা বদলানো গ্লাভ পরে খেলেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক জানান, পুরো টুর্নামেন্টেই তিনি ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলেছেন। সেই সাথে ভিডিওতে নিজের ডান হাতের অনামিকা আঙুলটি দেখিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে সেটি এখন আর পুরোপুরি বন্ধ হয় না। স্থানচ্যুত হাড় অন্য জায়গায় জোড়া লাগায় চিরতরে এমন ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। হালকা রসিকতার ছলে মার্তিনেজ মন্তব্য করেন, জীবনের বাকি সময় এভাবেই কাটাতে হবে এবং তিনি আর কাউকে শক্ত করে ঘুষিও মারতে পারবেন না। সেখানে ভিডিওতে তিনি দেখিয়েছেন ব্যাপারটি। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, আঙুলটি সরে গিয়েছিল আর ভেঙেও গিয়েছিল।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ক্লিন শিট বজায় রাখাসহ পুরো অভিযানে দুর্দান্ত খেললেও অস্ত্রোপচার না করানোর সিদ্ধান্তটি তার জন্য চিরস্থায়ী শারীরিক সমস্যা তৈরি করেছে। চোটের ওপর ভর করে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কারণেই তার হাতের এই ক্ষতি পুরোপুরি আর ভালো করা সম্ভব নয়।