2:30 pm, Friday, 30 October 2026

তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুতে বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির অকাল মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তাকে কিছু বিষয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। মায়ের কাছে বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তাহসিফ বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তবে এর পরদিন তুরাগ নদে তার নিথর দেহ ভেসে ওঠে। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে নৌ-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্যমতে, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে তুরাগ নদে একটি লাশ ভেসে থাকার কথা জানানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ডাঙায় তোলে। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটান। তার পরদিন (২৮ অক্টোবর) নিখোঁজ তাহসিফের নিথর দেহ ভেসে ওঠে তুরাগ নদে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বাইক নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে পৌঁছান দ্বীপ। গ্যারেজে প্রবেশের পর তিনি হেলমেট রেখে কাপড় দিয়ে নিজের মুখ মুছতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর তাহসিফ নিচে নেমে আসেন এবং কুশল বিনিময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে তারা দুটি পৃথক মোটরসাইকেলে গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যান। গ্যারেজে ঢুকে প্রথমেই তিনি নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রাখেন এবং পরিহিত কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি আলাদা মোটরসাইকেল নিয়ে গ্যারেজ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

দ্বীপ নিজেকে তাহসিফের ছোট ভাইয়ের মতো ঘনিষ্ঠ দাবি করে জানান, ঘটনার রাতে সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তারা একসঙ্গেই ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, সেই সময় তাহসিফকে বেশ স্বাভাবিক ও উৎফুল্ল মনে হয়েছিল। তবে প্রিয় বন্ধুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে দ্বীপ নিজেও শোকাহত ও হতভম্ব বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে পিবিআই তাদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে যে, সেই রাতে তাদের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন। সেই কালরাতে ঠিক কী হয়েছিল, দুজনে কোথায় গিয়েছিলেন আর কখন ফিরেই বা এসেছিলেন— এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন দ্বীপ।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 05:10:17 am, Friday, 30 October 2026

তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুতে বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই

Update Time : 05:10:17 am, Friday, 30 October 2026

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির অকাল মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তাকে কিছু বিষয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। মায়ের কাছে বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তাহসিফ বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তবে এর পরদিন তুরাগ নদে তার নিথর দেহ ভেসে ওঠে। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে নৌ-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্যমতে, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে তুরাগ নদে একটি লাশ ভেসে থাকার কথা জানানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ডাঙায় তোলে। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটান। তার পরদিন (২৮ অক্টোবর) নিখোঁজ তাহসিফের নিথর দেহ ভেসে ওঠে তুরাগ নদে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বাইক নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে পৌঁছান দ্বীপ। গ্যারেজে প্রবেশের পর তিনি হেলমেট রেখে কাপড় দিয়ে নিজের মুখ মুছতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর তাহসিফ নিচে নেমে আসেন এবং কুশল বিনিময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে তারা দুটি পৃথক মোটরসাইকেলে গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যান। গ্যারেজে ঢুকে প্রথমেই তিনি নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রাখেন এবং পরিহিত কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি আলাদা মোটরসাইকেল নিয়ে গ্যারেজ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

দ্বীপ নিজেকে তাহসিফের ছোট ভাইয়ের মতো ঘনিষ্ঠ দাবি করে জানান, ঘটনার রাতে সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তারা একসঙ্গেই ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, সেই সময় তাহসিফকে বেশ স্বাভাবিক ও উৎফুল্ল মনে হয়েছিল। তবে প্রিয় বন্ধুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে দ্বীপ নিজেও শোকাহত ও হতভম্ব বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে পিবিআই তাদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে যে, সেই রাতে তাদের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন। সেই কালরাতে ঠিক কী হয়েছিল, দুজনে কোথায় গিয়েছিলেন আর কখন ফিরেই বা এসেছিলেন— এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন দ্বীপ।