2:31 pm, Friday, 30 October 2026

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বড় জয়ের পথে বিএনপির মির্জা ফয়সল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২০টির ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৬১ হাজার ২৪৬ ভোট পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এখন পর্যন্ত মোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৫ শতাংশের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। পাঁচজন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক লড়াইয়ে রয়েছেন। ভোটগ্রহণের দিন মির্জা ফয়সল আমীন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

ভোট চলাকালীন একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এক জামায়াত নেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে এলাকাটিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দায়িত্বরতদের মধ্যে ছিল বিজিবির ২১ প্লাটুন, ২৫১ জন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৪৬৫ জন আনসার সদস্য। এছাড়া বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি। ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এজেন্টদের উপস্থিতিতেই তথ্য যাচাই করা হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, ১৬ বছর বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেও তারা ভোটার না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি। এটি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে মূল ভোটগ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। ভোটারদের পরিচয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করার পাশাপাশি এজেন্টদেরও বিষয়টি বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ১৬ বছর বয়সীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং নিবন্ধিতদের কার্ড দেওয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 04:33:28 am, Friday, 30 October 2026

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বড় জয়ের পথে বিএনপির মির্জা ফয়সল

Update Time : 04:33:28 am, Friday, 30 October 2026

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২০টির ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৬১ হাজার ২৪৬ ভোট পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এখন পর্যন্ত মোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৫ শতাংশের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। পাঁচজন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক লড়াইয়ে রয়েছেন। ভোটগ্রহণের দিন মির্জা ফয়সল আমীন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

ভোট চলাকালীন একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এক জামায়াত নেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে এলাকাটিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দায়িত্বরতদের মধ্যে ছিল বিজিবির ২১ প্লাটুন, ২৫১ জন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৪৬৫ জন আনসার সদস্য। এছাড়া বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি। ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এজেন্টদের উপস্থিতিতেই তথ্য যাচাই করা হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, ১৬ বছর বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেও তারা ভোটার না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি। এটি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে মূল ভোটগ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। ভোটারদের পরিচয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করার পাশাপাশি এজেন্টদেরও বিষয়টি বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ১৬ বছর বয়সীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং নিবন্ধিতদের কার্ড দেওয়া হয়।