রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে বালুর স্তূপ: বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গোদাগাড়ী উপজেলা অংশে সড়কের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বিশাল বালুর স্তূপ। প্রতিদিন ড্রেজার ও ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে এই বালু পরিবহন ও মজুদ করা হচ্ছে। বালুর স্তূপগুলো মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে হালকা বাতাস বইলে বালু উড়ে চালকদের চোখে পড়ে, যা মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির বড়ই অভাব রয়েছে।
মহাসড়কটির গোদাগাড়ী উপজেলার সোনাদিঘী, গোপালপুর, বিজয়নগর, সারেংপুর জৈতগশাই, সুলতানগঞ্জ গাংগোবাড়ি এবং মহিশালবাড়ীসহ অন্তত ১৫টি স্থানে এভাবে বালু রাখা হয়েছে। স্থানীয় অটোরিকশাচালক দুলাল জানান, বাতাস উঠলেই বালু উড়িয়ে নিয়ে যায়, ফলে সামনে দেখার সক্ষমতা হারিয়ে যায় এবং যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও মোটরসাইকেল আরোহী ওবাইদুল্লাহ বলেন, সড়কের পাশের এই বালু দ্রুত অপসারণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
অবশ্য বালু ব্যবসায়ীরা সরকারি অনুমোদনের দাবি করেছেন। সুলতানগঞ্জ গাংগোবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ দর দিয়ে তারা এই জায়গা ইজারা নিয়েছেন। তাদের দাবি, বালুর কারণে সমস্যা হলেও স্থানীয়ভাবে কেউ তাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। তবে গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দীন বিশ্বাস বলছেন, সড়ক দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানোর ফলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে, তবুও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) রাজশাহীর সভাপতি অ্যাডভোকেট তৌফিক আহমেদ টিটু জানান, মহাসড়কটি মাত্র দুই লেনের এবং এতে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। অধিক যানবাহনের চাপের মধ্যে সড়কের পাশে বালুর স্তূপ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান, মহাসড়কের পাশে বালুর ব্যবসা করা একটি গর্হিত অপরাধ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাইলে উপজেলা প্রশাসন তাদের সহায়তা করতে প্রস্তুত এবং এ ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী মহাসড়কের ৩৩ ফুটের মধ্যে যেকোনো ধরনের স্থাপনা বা ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ। তিনি আরও জানান, নিয়ম ভেঙে মহাসড়কের পাশে বালু রাখা হলে তা অপসারণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার মূল দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।
পরিবেশের ক্ষতির দিকটিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়কের পাশে বালু মজুদ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি জানান, বালুর ব্যবসা করতে হলে তা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক এবং পরিবহনের সময়ও একই নিয়ম প্রযোজ্য। শীঘ্রই নোটিশ পাঠিয়ে এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।



















