4:30 pm, Saturday, 31 October 2026

যশোর বোর্ডে এইচএসসির পাশের হার কমেছে ৪৪.৯২ শতাংশ

যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছর বোর্ডে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪.৯২ শতাংশ, যা গতবারের তুলনায় ৫.৩২ শতাংশ কম। পরীক্ষার ফলাফলে পাশের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমেছে। এ বছর মোট ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ২ হাজার ৭৬৭ জন কম।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ একে ‘ফল বিপর্যয়’ হিসেবে গণ্য করতে নারাজ।

তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান পরীক্ষার পদ্ধতি এবং খাতা মূল্যায়নের কঠোরতার কারণে প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে। শিক্ষকরা যেভাবে উত্তরপত্র পেয়েছেন, সেভাবেই মূল্যায়ন করেছেন। অধ্যাপক ড. মতিন বলেন, আমরা কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটির ওপর জোর দিচ্ছি। পড়াশোনায় মনোযোগী শিক্ষার্থীরাই ভালো ফল করবে বলে প্রত্যাশা আমাদের। তিনি বলেন, আমরা কোয়ালিটি চাই, কোয়ান্টিটি নয়।

এ বছর ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৪০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাশ করেছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন এবং পরীক্ষা চলাকালে ৪৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়। ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইংরেজি বিষয়ে পাশের হার ৫৪.৯৫ শতাংশ এবং আইসিটিতে পাশের হার ৬৭.৮৪ শতাংশ। এছাড়া উচ্চতর গণিতে ৬৯.৭১ শতাংশ, রসায়নে ৭৭.৪৮ শতাংশ এবং অ্যাকাউন্টিংয়ে ৭৬.২২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

বোর্ড সচিব জানান, ইংরেজি ও আইসিটিতে শিক্ষার্থীদের খারাপ ফলাফল মূল ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই ঘাটতি পূরণে আন্তঃবোর্ডের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। এ ছাড়া আইসিটিতেও শিক্ষার্থীরা বেশ খারাপ করেছে।

ফলাফলের ভিত্তিতে জেলায় জেলায় পাশের হার ভিন্ন হয়েছে। যশোর জেলা ৫২.৯৪ শতাংশ হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। এরপর যথাক্রমে খুলনা (৪৬.৬৫%), চুয়াডাঙ্গা (৪৬.১৩%), কুষ্টিয়া (৪৫.৩৮%), সাতক্ষীরা (৪৩.৪৫%), ঝিনাইদহ (৪১.৯৮%), মেহেরপুর (৪০.৭৬%), বাগেরহাট (৩৮.৮৬%), মাগুরা (৩৭.৩৬%) এবং নড়াইল (৩৬.৭৮%) রয়েছে।

শতভাগ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এ বছর কমে তিনটি হয়েছে। এগুলো হলো ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (৪৩ জন), খুলনার খালিশপুর নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৬১ জন) এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৩ জন)। অন্যদিকে, ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি, যা গতবার ছিল ২০টি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বীকৃতি নবায়ন বা শর্ত আরোপের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সচিব। কোনো শিক্ষার্থী পাশ করেনি এমন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিচে দেওয়া হলো যেমন গতবারের সংখ্যা ছিল ২০, এবার ১৬।

  • খুলনা অঞ্চলের ছয়টি প্রতিষ্ঠান: ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ (৩), খুলনা সদরের ইন্ডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ (১১), কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির (৩), কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৭), রূপসা উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল (১) এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২)।
  • কুষ্টিয়ার দুটি: মিরপুর উপজেলার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজ (৮) ও কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ (১)।
  • মাগুরার দুটি: বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজ (১৫) ও মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২)।
  • সাতক্ষীরার দুটি: ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (৩) ও একে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ (৪৯)।
  • অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ: মেহেরপুরের মরকা জাগরণ কলেজ (১), ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ (১৯), যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সবুজপল্লী কলেজ (৭) এবং নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট (৪৩)।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 08:52:07 am, Saturday, 31 October 2026

যশোর বোর্ডে এইচএসসির পাশের হার কমেছে ৪৪.৯২ শতাংশ

Update Time : 08:52:07 am, Saturday, 31 October 2026

যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছর বোর্ডে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪.৯২ শতাংশ, যা গতবারের তুলনায় ৫.৩২ শতাংশ কম। পরীক্ষার ফলাফলে পাশের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমেছে। এ বছর মোট ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ২ হাজার ৭৬৭ জন কম।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ একে ‘ফল বিপর্যয়’ হিসেবে গণ্য করতে নারাজ।

তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান পরীক্ষার পদ্ধতি এবং খাতা মূল্যায়নের কঠোরতার কারণে প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে। শিক্ষকরা যেভাবে উত্তরপত্র পেয়েছেন, সেভাবেই মূল্যায়ন করেছেন। অধ্যাপক ড. মতিন বলেন, আমরা কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটির ওপর জোর দিচ্ছি। পড়াশোনায় মনোযোগী শিক্ষার্থীরাই ভালো ফল করবে বলে প্রত্যাশা আমাদের। তিনি বলেন, আমরা কোয়ালিটি চাই, কোয়ান্টিটি নয়।

এ বছর ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৪০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাশ করেছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন এবং পরীক্ষা চলাকালে ৪৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়। ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইংরেজি বিষয়ে পাশের হার ৫৪.৯৫ শতাংশ এবং আইসিটিতে পাশের হার ৬৭.৮৪ শতাংশ। এছাড়া উচ্চতর গণিতে ৬৯.৭১ শতাংশ, রসায়নে ৭৭.৪৮ শতাংশ এবং অ্যাকাউন্টিংয়ে ৭৬.২২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

বোর্ড সচিব জানান, ইংরেজি ও আইসিটিতে শিক্ষার্থীদের খারাপ ফলাফল মূল ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই ঘাটতি পূরণে আন্তঃবোর্ডের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। এ ছাড়া আইসিটিতেও শিক্ষার্থীরা বেশ খারাপ করেছে।

ফলাফলের ভিত্তিতে জেলায় জেলায় পাশের হার ভিন্ন হয়েছে। যশোর জেলা ৫২.৯৪ শতাংশ হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। এরপর যথাক্রমে খুলনা (৪৬.৬৫%), চুয়াডাঙ্গা (৪৬.১৩%), কুষ্টিয়া (৪৫.৩৮%), সাতক্ষীরা (৪৩.৪৫%), ঝিনাইদহ (৪১.৯৮%), মেহেরপুর (৪০.৭৬%), বাগেরহাট (৩৮.৮৬%), মাগুরা (৩৭.৩৬%) এবং নড়াইল (৩৬.৭৮%) রয়েছে।

শতভাগ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এ বছর কমে তিনটি হয়েছে। এগুলো হলো ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (৪৩ জন), খুলনার খালিশপুর নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৬১ জন) এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৩ জন)। অন্যদিকে, ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি, যা গতবার ছিল ২০টি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বীকৃতি নবায়ন বা শর্ত আরোপের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সচিব। কোনো শিক্ষার্থী পাশ করেনি এমন ১৬টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিচে দেওয়া হলো যেমন গতবারের সংখ্যা ছিল ২০, এবার ১৬।

  • খুলনা অঞ্চলের ছয়টি প্রতিষ্ঠান: ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ (৩), খুলনা সদরের ইন্ডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ (১১), কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির (৩), কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৭), রূপসা উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল (১) এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২)।
  • কুষ্টিয়ার দুটি: মিরপুর উপজেলার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজ (৮) ও কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ (১)।
  • মাগুরার দুটি: বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজ (১৫) ও মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২)।
  • সাতক্ষীরার দুটি: ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (৩) ও একে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ (৪৯)।
  • অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহ: মেহেরপুরের মরকা জাগরণ কলেজ (১), ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ (১৯), যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সবুজপল্লী কলেজ (৭) এবং নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট (৪৩)।