4:30 pm, Saturday, 31 October 2026

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: ঢাকা-সৌদি রুটে ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার ঝুঁকিকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৫৩টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ১০ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় মোট ২২ হাজার ৬৩৬ জন প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৬টি এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৭টি।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (৩৩টি), এরপর সৌদিয়া এয়ারলাইন্স (২০টি), রিয়াদ এয়ারওয়েজ (১৩টি) ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স (১০টি)। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ভারতের ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় ট্রানজিটে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি প্রকট হয়েছে। বিশেষ করে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা এবং দাম্মাম এলাকায় হামলার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তাজনিত এই ঝুঁকির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রথমে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও, পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রবাসী কর্মীরা। অনেকে ছুটি শেষ করে কর্মস্থলে ফেরার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, আবার অনেকে নতুন ভিসায় সৌদি আরব যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। ফ্লাইট অনিশ্চয়তায় তাদের কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া বা পরবর্তী ফ্লাইটে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবুও সংকট নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 09:14:09 am, Saturday, 31 October 2026

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: ঢাকা-সৌদি রুটে ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল

Update Time : 09:14:09 am, Saturday, 31 October 2026

মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার ঝুঁকিকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৫৩টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ১০ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় মোট ২২ হাজার ৬৩৬ জন প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৬টি এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৭৭টি।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (৩৩টি), এরপর সৌদিয়া এয়ারলাইন্স (২০টি), রিয়াদ এয়ারওয়েজ (১৩টি) ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স (১০টি)। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ভারতের ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় ট্রানজিটে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি প্রকট হয়েছে। বিশেষ করে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা এবং দাম্মাম এলাকায় হামলার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তাজনিত এই ঝুঁকির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রথমে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও, পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রবাসী কর্মীরা। অনেকে ছুটি শেষ করে কর্মস্থলে ফেরার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, আবার অনেকে নতুন ভিসায় সৌদি আরব যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। ফ্লাইট অনিশ্চয়তায় তাদের কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া বা পরবর্তী ফ্লাইটে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবুও সংকট নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।