2:31 pm, Friday, 30 October 2026

দুদকের মামলা: ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ ৫৫ প্রকল্পের টাকা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন ওরফে নয়নসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে এই মামলাগুলো দায়ের করেন। এনায়েত হোসেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মামলা দুটির বিষয়ে দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাল ভাউচার তৈরি ও নিয়মবহির্ভূত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে জাল ভাউচারসহ নানা অনিয়ম করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়।

তদন্ত অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব প্রকল্পের নথিপত্র বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে দুদকের অনুসন্ধানকারীরা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাউচারে উল্লেখ করা অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের স্বাক্ষর ও লেখা ভুয়া। এছাড়া প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণীসহ নথিপত্রে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে থাকা অন্য সদস্যদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এই ৫৫টি প্রকল্পের অর্থ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন এনায়েত হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। ভুয়া ভাউচারে ৫৫ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের অপর মামলাটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে তাঁদের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে সরকারি অর্থ। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগসাজশে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে।

মামলার এজাহার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুন ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা নিয়ে তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। একই এলাকার মোস্তফা নামের আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকেও একইভাবে অর্থ উত্তোলনের তথ্য মিলেছে, যে বিষয়ে মোস্তফার স্ত্রী শামসুন নাহার কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম অবাক হন।

ভুয়া ভাউচার ও অনিয়মের ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন ছাড়াও করেরহাট ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম রয়েছেন। এছাড়া সাবেক ইউপি সদস্যদের মধ্যে মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলীসহ মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 06:48:02 am, Friday, 30 October 2026

দুদকের মামলা: ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ ৫৫ প্রকল্পের টাকা

Update Time : 06:48:02 am, Friday, 30 October 2026

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন ওরফে নয়নসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে এই মামলাগুলো দায়ের করেন। এনায়েত হোসেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মামলা দুটির বিষয়ে দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাল ভাউচার তৈরি ও নিয়মবহির্ভূত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউনিয়নে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে জাল ভাউচারসহ নানা অনিয়ম করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়।

তদন্ত অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে ৫৫টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব প্রকল্পের নথিপত্র বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে দুদকের অনুসন্ধানকারীরা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাউচারে উল্লেখ করা অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের স্বাক্ষর ও লেখা ভুয়া। এছাড়া প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণীসহ নথিপত্রে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে থাকা অন্য সদস্যদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এই ৫৫টি প্রকল্পের অর্থ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন এনায়েত হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। ভুয়া ভাউচারে ৫৫ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের অপর মামলাটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে তাঁদের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে সরকারি অর্থ। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগসাজশে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে।

মামলার এজাহার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুন ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা নিয়ে তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। একই এলাকার মোস্তফা নামের আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকেও একইভাবে অর্থ উত্তোলনের তথ্য মিলেছে, যে বিষয়ে মোস্তফার স্ত্রী শামসুন নাহার কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম অবাক হন।

ভুয়া ভাউচার ও অনিয়মের ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন ছাড়াও করেরহাট ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম রয়েছেন। এছাড়া সাবেক ইউপি সদস্যদের মধ্যে মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলীসহ মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে।