বিদেশি লিগে খেলতে পিসিবির বিরুদ্ধে ১০ হাজার ডলার দাবির অভিযোগ
বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) পেতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিরুদ্ধে। আগামী ৭ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে বসতে যাচ্ছে আবুধাবি টি-টেন লিগ। এই টুর্নামেন্টে এনওসি দেওয়ার বিনিময়ে পিসিবি প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছে ১০ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্যে জানা গেছে।
বোর্ডের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শাদাব খান, নাসিম শাহ, ফখর জামান, শাহিন আফ্রিদির মতো তারকা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি আব্বাস আফ্রিদি, ফাহিম আশরাফ, সালমান ইরশাদ, সুফিয়ান মুকিম এবং ইফতিকার আহমেদের আবুধাবি টি-টেন লিগে খেলা নিয়ে মারাত্মক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পিসিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা না দিলে কোনো খেলোয়াড়কেই বিদেশি লিগে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
এর আগে পিসিবির বিরুদ্ধে বিদেশি বিভিন্ন লিগের আয়োজকদের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি) এবং নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) সময়ও একই ধরনের ঘটনা দেখা যায়। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বোর্ড কর্তারা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে খেলোয়াড় প্রতি অর্থ দাবি করতেন। ফলে আয়োজকরা শেষ সময়ে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে খেলোয়াড়দের খেলাতেন, অথবা তাঁদের বাদ দিতে হতো।
তবে এবার ফ্র্যাঞ্চাইজি আয়োজকদের বাদ দিয়ে সরাসরি ক্রিকেটারদের ওপরই এই আর্থিক দায়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অঙ্গনে কোনো জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিজ দেশের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এভাবে এনওসির বিনিময়ে অর্থ আদায়ের বিষয়টিকে অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পিসিবির এমন অবস্থান এবং অনড় মনোভাবের কারণে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর আয়োজকদের মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

























