2:33 pm, Friday, 6 November 2026

ইসরাইলের সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে আইজেনকট, চাপে নেতানিয়াহু

ইসরাইলের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট সরকার গঠনের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের পরামর্শমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন মোট ৬৭ জন সংসদ সদস্য (এমকে)। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ জন সদস্য। বিপরীতে আইজেনকটের এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম।

এর আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, নেতানিয়াহুর পক্ষে ৫৩ জন এবং আইজেনকটের পক্ষে ৫৬ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন থাকতে পারে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের পক্ষ থেকে আকস্মিকভাবে আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ব্যবধান বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে দুই নেতার মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়ে যায়।

তবে ৬৭ জন সদস্যের সুপারিশ পেলেও আইজেনকটের জন্য সরকার গঠন মোটেও সহজ নয়। কারণ, তাকে সমর্থনকারী ৬৭ জনের মধ্যে মাত্র ৪৮ জন যেকোনো শর্ত ছাড়াই জোট গঠনে প্রস্তুত। অপর দিকে, নেতানিয়াহুর শিবিরে শর্তসহ ৫৩ জনের সমর্থন বহাল রয়েছে। এ ছাড়া জয়েন্ট লিস্ট কিংবা ইউটিজ—কোনোটিই এখন পর্যন্ত আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সরাসরি সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে সুপারিশের এই সংখ্যা মানেই আইজেনকটের সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়া নয়।

সরকার গঠনের পথে আইজেনকটের সামনে বেশ কিছু বড় বাধা রয়েছে। ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর কোনো জোটে যোগ দিতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। আবার অতি-ধর্মীয় দল ইউটিজের সঙ্গে সমঝোতায় আসা আইজেনকটের শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ তারা সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে, যা আইজেনকটের অধিকাংশ মিত্র দলের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধী।

এদিকে লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আইজেনকটের সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন। নির্বাচনে আরব ভোট নিয়ে বিতর্ক তৈরির পর এবার আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নতুন করে প্রচার চালাতে পারে নেতানিয়াহুর দল। একদিকে ৬৭ জনের সমর্থন পাওয়া আইজেনকট আপাতত এগিয়ে থাকলেও, জটিল রাজনৈতিক দর-কষাকষি ও জোটের সমীকরণে নেতানিয়াহুর ফেরার সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 05:43:58 am, Friday, 6 November 2026

ইসরাইলের সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে আইজেনকট, চাপে নেতানিয়াহু

Update Time : 05:43:58 am, Friday, 6 November 2026

ইসরাইলের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট সরকার গঠনের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের পরামর্শমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন মোট ৬৭ জন সংসদ সদস্য (এমকে)। বিপরীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ জন সদস্য। বিপরীতে আইজেনকটের এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম।

এর আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, নেতানিয়াহুর পক্ষে ৫৩ জন এবং আইজেনকটের পক্ষে ৫৬ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন থাকতে পারে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের পক্ষ থেকে আকস্মিকভাবে আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ব্যবধান বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে দুই নেতার মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়ে যায়।

তবে ৬৭ জন সদস্যের সুপারিশ পেলেও আইজেনকটের জন্য সরকার গঠন মোটেও সহজ নয়। কারণ, তাকে সমর্থনকারী ৬৭ জনের মধ্যে মাত্র ৪৮ জন যেকোনো শর্ত ছাড়াই জোট গঠনে প্রস্তুত। অপর দিকে, নেতানিয়াহুর শিবিরে শর্তসহ ৫৩ জনের সমর্থন বহাল রয়েছে। এ ছাড়া জয়েন্ট লিস্ট কিংবা ইউটিজ—কোনোটিই এখন পর্যন্ত আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সরাসরি সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে সুপারিশের এই সংখ্যা মানেই আইজেনকটের সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়া নয়।

সরকার গঠনের পথে আইজেনকটের সামনে বেশ কিছু বড় বাধা রয়েছে। ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর কোনো জোটে যোগ দিতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। আবার অতি-ধর্মীয় দল ইউটিজের সঙ্গে সমঝোতায় আসা আইজেনকটের শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ তারা সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে, যা আইজেনকটের অধিকাংশ মিত্র দলের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধী।

এদিকে লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আইজেনকটের সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন। নির্বাচনে আরব ভোট নিয়ে বিতর্ক তৈরির পর এবার আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নতুন করে প্রচার চালাতে পারে নেতানিয়াহুর দল। একদিকে ৬৭ জনের সমর্থন পাওয়া আইজেনকট আপাতত এগিয়ে থাকলেও, জটিল রাজনৈতিক দর-কষাকষি ও জোটের সমীকরণে নেতানিয়াহুর ফেরার সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন।