5:47 pm, Tuesday, 3 November 2026

দেশের ৮৪ শতাংশ কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক খাতে: বিশ্বব্যাংক

দেশের বিশাল শ্রমশক্তির প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী স্নাতকদের ক্ষেত্রেও এই হার উদ্বেগজনক; তাদের প্রায় ৪৪ শতাংশই আনুষ্ঠানিক চাকরির নিশ্চয়তা না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত। মঙ্গলবার রাজধানীর এক হোটেলে বিশ্বব্যাংকের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পরও আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা মিলছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি অত্যন্ত মন্থর। ছোট আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সাম্প্রতিককালে কর্মী নিয়োগের হার কমেছে। বাংলাদেশ এখনো জনমিতিক লভ্যাংশের সুফল পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাতে পারেনি। ২০৪৫ সালে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে হাতে থাকা প্রায় দুই দশকের সময়কালকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি বলে সংস্থাটি মনে করছে। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়ছে ধীরগতিতে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪৯ সালের মধ্যে এ অঞ্চল বার্ধক্যপ্রবণ হওয়ার পথে। তখন মোট জনসংখ্যার অন্তত ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশে ২০৫১ সালে একই পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তবে এ সুযোগের সময় দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ কম থাকা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, তরুণদের শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে মিল রেখে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সব বাধা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবীণদের আয়নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা এখন থেকেই গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। প্রবীণদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশের হাতে পেনশন সুবিধা পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রসার, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামনে বিপুল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 07:27:33 am, Tuesday, 3 November 2026

দেশের ৮৪ শতাংশ কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক খাতে: বিশ্বব্যাংক

Update Time : 07:27:33 am, Tuesday, 3 November 2026

দেশের বিশাল শ্রমশক্তির প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী স্নাতকদের ক্ষেত্রেও এই হার উদ্বেগজনক; তাদের প্রায় ৪৪ শতাংশই আনুষ্ঠানিক চাকরির নিশ্চয়তা না পেয়ে অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত। মঙ্গলবার রাজধানীর এক হোটেলে বিশ্বব্যাংকের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পরও আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা মিলছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি অত্যন্ত মন্থর। ছোট আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সাম্প্রতিককালে কর্মী নিয়োগের হার কমেছে। বাংলাদেশ এখনো জনমিতিক লভ্যাংশের সুফল পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাতে পারেনি। ২০৪৫ সালে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে হাতে থাকা প্রায় দুই দশকের সময়কালকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি বলে সংস্থাটি মনে করছে। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়ছে ধীরগতিতে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট সতর্ক করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪৯ সালের মধ্যে এ অঞ্চল বার্ধক্যপ্রবণ হওয়ার পথে। তখন মোট জনসংখ্যার অন্তত ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশে ২০৫১ সালে একই পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তবে এ সুযোগের সময় দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ কম থাকা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, তরুণদের শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে মিল রেখে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সব বাধা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রবীণদের আয়নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা এখন থেকেই গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। প্রবীণদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশের হাতে পেনশন সুবিধা পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রসার, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামনে বিপুল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।