2:32 pm, Friday, 6 November 2026

চ্যালেঞ্জের মুখেও ১.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা এমিরেটস গ্রুপের

আঞ্চলিক সংঘাত, পরিচালনাগত বিভিন্ন বাধা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এমিরেটস গ্রুপ তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বজায় রেখেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গ্রুপটি ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে। এমিরেটস এয়ারলাইন, ডানাটা এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপটি তাদের সুনিপুণ কৌশল ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতার মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে। তবে গ্রুপটির ব্যবসায়িক মডেল এবং কর্মীরা সম্মিলিতভাবে সেই চ্যালেঞ্জ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।

তবে আর্থিক প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় গ্রুপটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৬৬ শতাংশ কমে ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে সামগ্রিক রাজস্ব ১২ শতাংশ কমে ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ২০.৬ বিলিয়ন ডলার। এককভাবে এমিরেটস এয়ারলাইন প্রথম ছয় মাসে ১ বিলিয়ন ডলার কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে, যদিও আগের বছর এই পরিমাণ ছিল ৩.১ বিলিয়ন ডলার। এয়ারলাইনটির রাজস্ব ১৩ শতাংশ কমে ১৫.৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে এবং নিট মুনাফা ৬৬ শতাংশ কমে ৯০৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

এমিরেটস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম এই ছয় মাসকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গ্রাহকদের চাহিদা স্থিতিশীল ছিল এবং কার্গো পরিবহন কার্যক্রম নগদ অর্থের প্রবাহ বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও গ্রুপটি উড়োজাহাজ বহর সম্প্রসারণ এবং সেবার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। তবে যাত্রী পরিবহনের দিক থেকে এয়ারলাইনটি কিছুটা পিছিয়ে আছে; প্রথম ছয় মাসে ২ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে তারা, যা আগের বছরের চেয়ে ২২ শতাংশ কম। সামগ্রিক পরিবহন সক্ষমতাও এ সময়ে ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে, এমিরেটসের কার্গো বিভাগ এমিরেটস স্কাইকার্গো ১২ লাখ টন পণ্য পরিবহন করেছে। পরিমাণে এটি আগের বছরের চেয়ে ১ শতাংশ কম হলেও, আকাশপথে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা হ্রাস এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটায় এ খাত থেকে আয় বেড়েছে ৫২ শতাংশ। এ ছাড়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডানাটার পারফরম্যান্সও চাপের মুখে ছিল। ডানাটার রাজস্ব ৭ শতাংশ কমে ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তাদের কর-পূর্ব মুনাফা ৫১ শতাংশ কমে ১১২ মিলিয়ন ডলার এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ৫৬ শতাংশ কমে ৮৪ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ রাজস্ব কমেছে ৭ শতাংশ।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, এমিরেটস গ্রুপে মোট কর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন, যা গত ৩১ মার্চের তুলনায় ২ শতাংশ কম। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবসায়িক ও পরিচালনাগত চাহিদা মেটাতে তারা নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। বর্তমানে দুবাইকে কেন্দ্র করে এমিরেটস ৭৮টি দেশ ও অঞ্চলের ১৫০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং তারা তাদের ফ্লাইট নেটওয়ার্কের ৯১ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি দক্ষতার সাথে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 04:23:15 am, Friday, 6 November 2026

চ্যালেঞ্জের মুখেও ১.১ বিলিয়ন ডলার মুনাফা এমিরেটস গ্রুপের

Update Time : 04:23:15 am, Friday, 6 November 2026

আঞ্চলিক সংঘাত, পরিচালনাগত বিভিন্ন বাধা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এমিরেটস গ্রুপ তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বজায় রেখেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গ্রুপটি ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে। এমিরেটস এয়ারলাইন, ডানাটা এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপটি তাদের সুনিপুণ কৌশল ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতার মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে। তবে গ্রুপটির ব্যবসায়িক মডেল এবং কর্মীরা সম্মিলিতভাবে সেই চ্যালেঞ্জ সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।

তবে আর্থিক প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় গ্রুপটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৬৬ শতাংশ কমে ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে সামগ্রিক রাজস্ব ১২ শতাংশ কমে ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ২০.৬ বিলিয়ন ডলার। এককভাবে এমিরেটস এয়ারলাইন প্রথম ছয় মাসে ১ বিলিয়ন ডলার কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে, যদিও আগের বছর এই পরিমাণ ছিল ৩.১ বিলিয়ন ডলার। এয়ারলাইনটির রাজস্ব ১৩ শতাংশ কমে ১৫.৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে এবং নিট মুনাফা ৬৬ শতাংশ কমে ৯০৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

এমিরেটস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম এই ছয় মাসকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গ্রাহকদের চাহিদা স্থিতিশীল ছিল এবং কার্গো পরিবহন কার্যক্রম নগদ অর্থের প্রবাহ বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও গ্রুপটি উড়োজাহাজ বহর সম্প্রসারণ এবং সেবার মানোন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। তবে যাত্রী পরিবহনের দিক থেকে এয়ারলাইনটি কিছুটা পিছিয়ে আছে; প্রথম ছয় মাসে ২ কোটি ১৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে তারা, যা আগের বছরের চেয়ে ২২ শতাংশ কম। সামগ্রিক পরিবহন সক্ষমতাও এ সময়ে ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে, এমিরেটসের কার্গো বিভাগ এমিরেটস স্কাইকার্গো ১২ লাখ টন পণ্য পরিবহন করেছে। পরিমাণে এটি আগের বছরের চেয়ে ১ শতাংশ কম হলেও, আকাশপথে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা হ্রাস এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটায় এ খাত থেকে আয় বেড়েছে ৫২ শতাংশ। এ ছাড়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডানাটার পারফরম্যান্সও চাপের মুখে ছিল। ডানাটার রাজস্ব ৭ শতাংশ কমে ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তাদের কর-পূর্ব মুনাফা ৫১ শতাংশ কমে ১১২ মিলিয়ন ডলার এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ৫৬ শতাংশ কমে ৮৪ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ রাজস্ব কমেছে ৭ শতাংশ।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, এমিরেটস গ্রুপে মোট কর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন, যা গত ৩১ মার্চের তুলনায় ২ শতাংশ কম। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবসায়িক ও পরিচালনাগত চাহিদা মেটাতে তারা নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। বর্তমানে দুবাইকে কেন্দ্র করে এমিরেটস ৭৮টি দেশ ও অঞ্চলের ১৫০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং তারা তাদের ফ্লাইট নেটওয়ার্কের ৯১ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি দক্ষতার সাথে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।