2:32 pm, Friday, 6 November 2026

ইরানে সর্বাত্মক যুদ্ধের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন ডনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে খুব দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনটি পথ খোলা রয়েছে—নতুন করে ব্যাপক সামরিক হামলা, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা, অথবা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন রেজাই।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করার পাশাপাশি তা যেন ভবিষ্যতে আর পুনরুজ্জীবিত হতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি দেশটির অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করতে চান না, তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে তার সামনে আর কোনো উপায় খোলা থাকবে না। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যার লক্ষ্য হলো পারস্পরিক আস্থা তৈরির মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং দেশটির জব্দ করা কিছু অর্থ ছাড় করবে। এর বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেবে। এটি মূলত এক বছর আগের কায়রো চুক্তির ভিত্তিতে প্রস্তাবিত পদক্ষেপ। পরবর্তী ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে পুনরায় আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সময়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছেন। রেজাই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। পুতিন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়তার আশ্বাস দিলেও, রেজাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাতটি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং কোনো আলোচনা শুরু হবে না। যদিও ওয়াশিংটন থেকে এখনো কোনো নতুন নির্দেশনা আসেনি বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত রাখলেও, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট রণতরীটি নভেম্বরের মাঝামাঝির আগে সেন্টকমের এলাকায় পৌঁছাবে না বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও তার স্ট্রাইক গ্রুপ শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে কিনা, তার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের আগমন।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 04:13:16 am, Friday, 6 November 2026

ইরানে সর্বাত্মক যুদ্ধের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন ডনাল্ড ট্রাম্প

Update Time : 04:13:16 am, Friday, 6 November 2026

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে খুব দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনটি পথ খোলা রয়েছে—নতুন করে ব্যাপক সামরিক হামলা, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা, অথবা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন রেজাই।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করার পাশাপাশি তা যেন ভবিষ্যতে আর পুনরুজ্জীবিত হতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি দেশটির অবশিষ্ট অংশ ধ্বংস করতে চান না, তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে তার সামনে আর কোনো উপায় খোলা থাকবে না। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও মিসরের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যার লক্ষ্য হলো পারস্পরিক আস্থা তৈরির মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং দেশটির জব্দ করা কিছু অর্থ ছাড় করবে। এর বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেবে। এটি মূলত এক বছর আগের কায়রো চুক্তির ভিত্তিতে প্রস্তাবিত পদক্ষেপ। পরবর্তী ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে পুনরায় আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সময়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছেন। রেজাই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। পুতিন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়তার আশ্বাস দিলেও, রেজাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাতটি শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং কোনো আলোচনা শুরু হবে না। যদিও ওয়াশিংটন থেকে এখনো কোনো নতুন নির্দেশনা আসেনি বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত রাখলেও, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট রণতরীটি নভেম্বরের মাঝামাঝির আগে সেন্টকমের এলাকায় পৌঁছাবে না বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও তার স্ট্রাইক গ্রুপ শুক্রবার থেকে কয়েক দিনের জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে কিনা, তার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের আগমন।