5:00 pm, Tuesday, 3 November 2026

ওসমানী বিমানবন্দরে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীকে ফ্লাইটে নিতে অস্বীকার বিমান বাংলাদেশ

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উঠার সময় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী বাধার মুখে পড়েন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নির্ধারিত বিজি-২০১ ফ্লাইটটিতে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল। তবে ওই নারী ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হলেও তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অনুমতিপত্র বা ছাড়পত্র ছিল না। বিমান সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, আকাশপথে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য এই বিশেষ স্বাস্থ্য সনদ বাধ্যতামূলক হওয়ায় তাঁকে ফ্লাইটে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই নারীকে একা রেখে যেতে রাজি না হওয়ায় তাঁর পরিবারের অন্য তিন সদস্যও ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদ জানান, বিষয়টি পুরোপুরি বিমান সংস্থার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলির সাথে সম্পর্কিত। তিনি আরও বলেন, অন্তঃসত্ত্বা ওই যাত্রীকে ফ্লাইটে ওঠানোর জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে যাত্রীর কাছে চিকিৎসকের ছাড়পত্র না থাকা এবং কেবিন ক্রুদের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা বা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে, যাত্রী ও তাঁর স্বজনদের বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিবারটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হলে রোববার (১ নভেম্বর) তাঁদের যুক্তরাজ্য যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইটে নিরাপদ আকাশযাত্রা নিশ্চিত করতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন অনুসরণ করা অপরিহার্য। গর্ভাবস্থার একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে ভ্রমণের পূর্বে শারীরিক অবস্থা ও আকাশপথের উপযোগিতা যাচাইয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ও অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। এ ধরনের নিয়ম মেনে চলা হলে শেষ মুহূর্তের অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা ও ভ্রমণ বাতিলের মতো বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব। এ ঘটনাটি যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নীতিমালার বিষয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 03:10:49 am, Monday, 2 November 2026

ওসমানী বিমানবন্দরে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীকে ফ্লাইটে নিতে অস্বীকার বিমান বাংলাদেশ

Update Time : 03:10:49 am, Monday, 2 November 2026

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উঠার সময় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী বাধার মুখে পড়েন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নির্ধারিত বিজি-২০১ ফ্লাইটটিতে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল। তবে ওই নারী ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হলেও তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অনুমতিপত্র বা ছাড়পত্র ছিল না। বিমান সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, আকাশপথে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য এই বিশেষ স্বাস্থ্য সনদ বাধ্যতামূলক হওয়ায় তাঁকে ফ্লাইটে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই নারীকে একা রেখে যেতে রাজি না হওয়ায় তাঁর পরিবারের অন্য তিন সদস্যও ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদ জানান, বিষয়টি পুরোপুরি বিমান সংস্থার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলির সাথে সম্পর্কিত। তিনি আরও বলেন, অন্তঃসত্ত্বা ওই যাত্রীকে ফ্লাইটে ওঠানোর জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে যাত্রীর কাছে চিকিৎসকের ছাড়পত্র না থাকা এবং কেবিন ক্রুদের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা বা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে, যাত্রী ও তাঁর স্বজনদের বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিবারটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হলে রোববার (১ নভেম্বর) তাঁদের যুক্তরাজ্য যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইটে নিরাপদ আকাশযাত্রা নিশ্চিত করতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন অনুসরণ করা অপরিহার্য। গর্ভাবস্থার একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে ভ্রমণের পূর্বে শারীরিক অবস্থা ও আকাশপথের উপযোগিতা যাচাইয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ও অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। এ ধরনের নিয়ম মেনে চলা হলে শেষ মুহূর্তের অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা ও ভ্রমণ বাতিলের মতো বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব। এ ঘটনাটি যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নীতিমালার বিষয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।