প্রধানমন্ত্রী |: সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেছেন।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচার কায়েম করতে চেয়েছিল, তাদের পরাজয় ঘটেছিল এই দিনে। সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু ও মিত্রদের চিহ্নিত করার মোক্ষম সময়। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী এক প্রবাদবাক্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ইতিহাস ভুলে যাওয়াও অন্ধত্বের শামিল। ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করা একটি ঐতিহাসিক ভুল। তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পর মহাজোটের নামে পরাজিত অপশক্তি ক্ষমতায় এসে পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। তবে হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ যেমন স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের চেতনা ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্পষ্ট করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি সংগ্রামের লক্ষ্যই ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ।
ভবিষ্যতে যেন কেউ জনগণের অধিকার হরণ করতে বা দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্যকে সমুন্নত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের উদ্দেশ্যে দীপ্ত উচ্চারণ করেন—’দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি প্রত্যাশা করেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সবসময় প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে থাকবে।


























