4:23 pm, Sunday, 8 November 2026

আর্থিক সংকটে চীনের শীর্ষ তিন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা

চীনের তিন প্রধান উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা—এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস—বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়টিকে চীনের এভিয়েশন খাতে সবচেয়ে লাভজনক মৌসুম ধরা হয়। গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও পর্যটকদের বাড়তি চাহিদার কারণে এই সময়ে আয় বৃদ্ধির প্রত্যাশা থাকে। তবে চলতি বছর সেই চিত্র একেবারেই বিপরীত। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, টিকিটের নিম্নমুখী আয় এবং টাইফুনের মতো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটায় সংস্থাগুলোর মুনাফায় ধস নেমেছে। শুধু তৃতীয় প্রান্তিকই নয়, বছরের প্রথম নয় মাসেও প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের কবলে পড়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এ সময়ে যাত্রীদের ভ্রমণ চাহিদা বাড়ে।

সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এয়ার চায়নার নিট মুনাফা ৯২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৬ লাখ ইউয়ানে। একই সময়ে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের অবস্থা আরও নাজুক, তাদের মুনাফা কমেছে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ কোটি ৪০ লাখ ইউয়ান। সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস। গত বছর একই সময়ে ৩৮৪ কোটি ইউয়ান মুনাফা করা এই সংস্থাটি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৬০ কোটি ৯০ লাখ ইউয়ান লোকসান গুনেছে। ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো গত বছর ঘুরে দাঁড়ালেও, এ বছর ফের লোকসানে ফেরার শঙ্কায় পড়েছে তারা।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে এয়ার চায়না ও চায়না ইস্টার্ন ধারাবাহিকভাবে লোকসানের চক্রে আটকা পড়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা মোকাবিলায় হেজিং বা আগাম মূল্য নির্ধারণের মতো কৌশলে চীনা এয়ারলাইনগুলোর অনীহা বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের পরিচালন ব্যয়ের ওপর।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলতি বছরের বাকি সময়টাতেও এই আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এতে করে শীর্ষ এই তিনটি উড়োজাহাজ সংস্থার পক্ষে খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আকাশপথের এই বাণিজ্য সংকট চীনের উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালের বাকি সময়েও এই আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 05:43:23 am, Sunday, 8 November 2026

আর্থিক সংকটে চীনের শীর্ষ তিন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা

Update Time : 05:43:23 am, Sunday, 8 November 2026

চীনের তিন প্রধান উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা—এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস—বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়টিকে চীনের এভিয়েশন খাতে সবচেয়ে লাভজনক মৌসুম ধরা হয়। গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও পর্যটকদের বাড়তি চাহিদার কারণে এই সময়ে আয় বৃদ্ধির প্রত্যাশা থাকে। তবে চলতি বছর সেই চিত্র একেবারেই বিপরীত। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, টিকিটের নিম্নমুখী আয় এবং টাইফুনের মতো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটায় সংস্থাগুলোর মুনাফায় ধস নেমেছে। শুধু তৃতীয় প্রান্তিকই নয়, বছরের প্রথম নয় মাসেও প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের কবলে পড়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এ সময়ে যাত্রীদের ভ্রমণ চাহিদা বাড়ে।

সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এয়ার চায়নার নিট মুনাফা ৯২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৬ লাখ ইউয়ানে। একই সময়ে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের অবস্থা আরও নাজুক, তাদের মুনাফা কমেছে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ কোটি ৪০ লাখ ইউয়ান। সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস। গত বছর একই সময়ে ৩৮৪ কোটি ইউয়ান মুনাফা করা এই সংস্থাটি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৬০ কোটি ৯০ লাখ ইউয়ান লোকসান গুনেছে। ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো গত বছর ঘুরে দাঁড়ালেও, এ বছর ফের লোকসানে ফেরার শঙ্কায় পড়েছে তারা।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে এয়ার চায়না ও চায়না ইস্টার্ন ধারাবাহিকভাবে লোকসানের চক্রে আটকা পড়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা মোকাবিলায় হেজিং বা আগাম মূল্য নির্ধারণের মতো কৌশলে চীনা এয়ারলাইনগুলোর অনীহা বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের পরিচালন ব্যয়ের ওপর।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলতি বছরের বাকি সময়টাতেও এই আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এতে করে শীর্ষ এই তিনটি উড়োজাহাজ সংস্থার পক্ষে খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আকাশপথের এই বাণিজ্য সংকট চীনের উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালের বাকি সময়েও এই আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।