3:34 pm, Saturday, 31 October 2026

বিএনপি-জামায়াত দ্বৈরথ: আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে আসল রহস্য কী?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বর্তমানে অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত আঁতাত করছে—বিএনপির পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ ওঠার পর দুই দলের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেই এই অভিযোগ কেন সামনে এলো, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। এটি কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে, নাকি জামায়াতকে সমঝোতায় আনার পরোক্ষ কোনো রাজনৈতিক চাপ এটি। সারা দেশে কোথাও কোনো অফিস খুলতে পারি নাই। জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম বলেন, তারা কোনো দলের সঙ্গেই সমঝোতা করে কাজ করছেন না। ফলে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাত বা ভারতীয় গোয়েন্দাদের বৈঠকের যে অভিযোগ সামনে আনছে বিএনপি, সেটি বাস্তব, নাকি নিছক রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। আরেকটি বড় বিরোধ হচ্ছে, সংবিধান নিয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, সংবিধান নিয়ে। বিরোধী দলগুলো অনড় থাকায় সেটা এখন বিএনপির জন্য উদ্বেগের কারণ।

এক সময় বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনেও চারদলীয় জোটের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় আসে, যেখানে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা মন্ত্রিত্বও পান। দীর্ঘ সময় জুড়ে আন্দোলন-সংগ্রামে এই দুই দলের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থাকলেও এখন দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াত ছিলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। জামায়াতের নাম উল্লেখ করে সরকারি দলের বক্তব্যের পর অবশ্য জামায়াতও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। কিন্তু তারা (বিএনপি) বছরের পর বছর দলীয় কার্যালয়ে বসে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করল, অনুমতি নিয়ে মিছিল করল, মিটিং করল।

সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ গোপনে হাত মিলিয়েছে বলে দাবি করছে বিএনপি। সম্প্রতি রাজশাহীর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এমন অভিযোগের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির পেছনে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের অর্থায়ন রয়েছে। তার দাবি, একটি দল বা পক্ষ ভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং দুই পক্ষ মিলে দেশের পরিস্থিতি অস্থির করে তোলার পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা তথ্য যেটার কথা খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন। এটা তো আপনারা জানেন যে প্রাইম মিনিস্টার নিজে বলেছেন।

তবে জামায়াত এই অভিযোগকে স্রেফ রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতের পাঁচ শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে এবং দলটির অফিস বছরের পর বছর বন্ধ রেখেছে। এমন দলের সঙ্গে তাদের আঁতাতের দাবি কোনো পাগলও বিশ্বাস করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বরং বিএনপির দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকারের মেয়াদেও তাদের কার্যালয় সচল ছিল এবং তারা নিয়মিত সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পেত। উল্টো বিএনপিই ক্ষমতা হারানোর আগেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন। জামায়াতের মতে, সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতা আড়াল করতে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্যে করছে। তো এগুলোতেই একটা সন্দেহ জনমনে আছে যে, এরা যেকোনো সময় মানে এই কাজগুলো করতে পারে বা তারা করছে ভেতরে ভেতরে। কিন্তু এটা করতে গিয়ে যে মহাবিপদ চলে আসতে পারে এবং তাতে যে তাদেরও লাভ হবে না, সেই সেন্সটা কাজ করছে কিনা এটা আমার যথেষ্ট সন্দেহ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এই প্রসঙ্গে বলেন, কেবল গোয়েন্দা তথ্য নয়, জামায়াতের অতিমাত্রায় সরকারবিরোধী অবস্থানের পেছনে আওয়ামী লীগের যোগসাজশ থাকতে পারে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই যে পয়েন্ট অফ নো রিটার্নের অবস্থায় যদি এভাবে চলে আসে যে, আমরা যেটা বলেছি ওটাই মানতে হবে।

৫ আগস্টের পর থেকেই জামায়াতকে আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিতে দেখা গেছে, যা জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সরকারকে দ্রুত চাপে ফেলে পতন ঘটানোর এই অপপ্রয়াস শেষ পর্যন্ত কারোর জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

তবে এই উত্তেজনার গভীরে রয়েছে সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ নিয়ে গভীর মতপার্থক্য। জামায়াতসহ এগারোটি দল সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আমূল সংস্কার চায়। অন্যদিকে, বিএনপি প্রস্তাবিত সংস্কারের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে মত দিচ্ছে। বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কারণে সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোলে তা নৈতিক বৈধতার সংকটে পড়বে বলে বিএনপির ধারণা। তারা চায় যেসব বিষয়ে আপত্তি বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো না রাখতে।

বিএনপি নেতারা অবশ্য দাবি করছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়; বরং তাদের কাছে জামায়াত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতের দাবি, বিএনপি আসলে জুলাই সনদ ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই এমন কনফিউশন তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ যখন নতুন রূপরেখার দিকে এগোচ্ছে, তখন পুরনো মিত্রদের এই অবিশ্বাস নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 04:52:10 am, Saturday, 31 October 2026

বিএনপি-জামায়াত দ্বৈরথ: আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে আসল রহস্য কী?

Update Time : 04:52:10 am, Saturday, 31 October 2026

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বর্তমানে অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত আঁতাত করছে—বিএনপির পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ ওঠার পর দুই দলের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেই এই অভিযোগ কেন সামনে এলো, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। এটি কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে, নাকি জামায়াতকে সমঝোতায় আনার পরোক্ষ কোনো রাজনৈতিক চাপ এটি। সারা দেশে কোথাও কোনো অফিস খুলতে পারি নাই। জানতে চাইলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম বলেন, তারা কোনো দলের সঙ্গেই সমঝোতা করে কাজ করছেন না। ফলে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাত বা ভারতীয় গোয়েন্দাদের বৈঠকের যে অভিযোগ সামনে আনছে বিএনপি, সেটি বাস্তব, নাকি নিছক রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। আরেকটি বড় বিরোধ হচ্ছে, সংবিধান নিয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, সংবিধান নিয়ে। বিরোধী দলগুলো অনড় থাকায় সেটা এখন বিএনপির জন্য উদ্বেগের কারণ।

এক সময় বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনেও চারদলীয় জোটের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় আসে, যেখানে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা মন্ত্রিত্বও পান। দীর্ঘ সময় জুড়ে আন্দোলন-সংগ্রামে এই দুই দলের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থাকলেও এখন দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াত ছিলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। জামায়াতের নাম উল্লেখ করে সরকারি দলের বক্তব্যের পর অবশ্য জামায়াতও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। কিন্তু তারা (বিএনপি) বছরের পর বছর দলীয় কার্যালয়ে বসে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করল, অনুমতি নিয়ে মিছিল করল, মিটিং করল।

সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ গোপনে হাত মিলিয়েছে বলে দাবি করছে বিএনপি। সম্প্রতি রাজশাহীর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এমন অভিযোগের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির পেছনে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের অর্থায়ন রয়েছে। তার দাবি, একটি দল বা পক্ষ ভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং দুই পক্ষ মিলে দেশের পরিস্থিতি অস্থির করে তোলার পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কল-কারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা তথ্য যেটার কথা খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন। এটা তো আপনারা জানেন যে প্রাইম মিনিস্টার নিজে বলেছেন।

তবে জামায়াত এই অভিযোগকে স্রেফ রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতের পাঁচ শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে এবং দলটির অফিস বছরের পর বছর বন্ধ রেখেছে। এমন দলের সঙ্গে তাদের আঁতাতের দাবি কোনো পাগলও বিশ্বাস করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বরং বিএনপির দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকারের মেয়াদেও তাদের কার্যালয় সচল ছিল এবং তারা নিয়মিত সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পেত। উল্টো বিএনপিই ক্ষমতা হারানোর আগেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন। জামায়াতের মতে, সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতা আড়াল করতে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্যে করছে। তো এগুলোতেই একটা সন্দেহ জনমনে আছে যে, এরা যেকোনো সময় মানে এই কাজগুলো করতে পারে বা তারা করছে ভেতরে ভেতরে। কিন্তু এটা করতে গিয়ে যে মহাবিপদ চলে আসতে পারে এবং তাতে যে তাদেরও লাভ হবে না, সেই সেন্সটা কাজ করছে কিনা এটা আমার যথেষ্ট সন্দেহ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এই প্রসঙ্গে বলেন, কেবল গোয়েন্দা তথ্য নয়, জামায়াতের অতিমাত্রায় সরকারবিরোধী অবস্থানের পেছনে আওয়ামী লীগের যোগসাজশ থাকতে পারে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই যে পয়েন্ট অফ নো রিটার্নের অবস্থায় যদি এভাবে চলে আসে যে, আমরা যেটা বলেছি ওটাই মানতে হবে।

৫ আগস্টের পর থেকেই জামায়াতকে আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিতে দেখা গেছে, যা জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সরকারকে দ্রুত চাপে ফেলে পতন ঘটানোর এই অপপ্রয়াস শেষ পর্যন্ত কারোর জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

তবে এই উত্তেজনার গভীরে রয়েছে সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ নিয়ে গভীর মতপার্থক্য। জামায়াতসহ এগারোটি দল সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আমূল সংস্কার চায়। অন্যদিকে, বিএনপি প্রস্তাবিত সংস্কারের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে মত দিচ্ছে। বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কারণে সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোলে তা নৈতিক বৈধতার সংকটে পড়বে বলে বিএনপির ধারণা। তারা চায় যেসব বিষয়ে আপত্তি বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো না রাখতে।

বিএনপি নেতারা অবশ্য দাবি করছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়; বরং তাদের কাছে জামায়াত-আওয়ামী লীগ আঁতাতের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতের দাবি, বিএনপি আসলে জুলাই সনদ ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই এমন কনফিউশন তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ যখন নতুন রূপরেখার দিকে এগোচ্ছে, তখন পুরনো মিত্রদের এই অবিশ্বাস নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।