1:36 pm, Thursday, 5 November 2026

গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পরিচিত পাখি কাক

একসময় গ্রামবাংলার ভোর শুরু হতো কাকের কর্কশ কা-কা ডাকে, যা ঘুম ভাঙাতো সর্বস্তরের মানুষের। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন বিরল হয়ে পড়েছে। সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ‘প্রকৃতির ডাস্টবিন’ হিসেবে পরিচিত এই পাখিটি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। পৃথিবীতে প্রায় ৪০ প্রজাতির কাকের অস্তিত্ব থাকলেও বাংলাদেশে প্রধানত দুই ধরনের কাক বেশি চোখে পড়তো। এর মধ্যে আকারে বড় দাড় কাক এবং তুলনামূলক ছোট পাতী কাকই আমাদের পরিবেশে বেশি দেখা যেত। জানাযায়, পৃথিবীতে ৪০ প্রকৃতির কাক থাকলেও সিরাজগঞ্জে সাধারনত দুই প্রকার দুই প্রকারের কাক বেশী দেখা যেতো। অতীতে গ্রাম বাঙলায় ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই কাকদের কা-কা ডাকে লোকালয় মুখোর হয়ে উঠতো। ঘুম থেকে জেগে উঠত আবাল বৃদ্ধ বনিতা। কাকদের কাছ থেকে মানুষ অনেক উপকার পায়।

পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, কাককে পাখিকুলের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান বিবেচনা করা হয়। কলস থেকে বুদ্ধি খাটিয়ে পাথর ফেলে পানি খাওয়ার গল্পটি এদের বুদ্ধিমত্তার অন্যতম নিদর্শন। এরা মূলত হাঁস-মুরগির ছানা, পোকামাকড়, ফলমূল, ফসলের বীজ, পাখির ডিম এমনকি সাপ ও ব্যাঙ খেয়ে বেঁচে থাকে। এছাড়া পচা-বাসি খাবার, মরা ইঁদুর ও বিড়ালের মতো বর্জ্য পরিষ্কার করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। মজার ব্যাপার হলো, নোংরা খাবার খেলেও এরা নিজের শরীর পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত গোসল করে। কাকের বুদ্ধির একটি গল্প কলসের মধ্যে পাথর ফেলে পানি ঠোঁটের নাগালে আনার গল্প শোনা যায়। তাছাড়া মরা ইদুর, মরা বিড়াল, পঁচা-বাসী খাবার নিয়মিত ভাবে পরিস্কার করে, কারণ এগুলোই তাদের খাবার।

কাকের বাসা তৈরির প্রক্রিয়াটিও বেশ বৈচিত্র্যময়। প্লাস্টিক, ফিতা, রশি, কাপড়ের টুকরো, উল, তুলা, লোহার তার ও পলিথিনের মতো পরিত্যক্ত সামগ্রী ব্যবহার করে এরা অগোছালোভাবে বাসা বাঁধে। পেঁচা, চড়ুই বা চিলের মতো পাখিরা প্রায়ই কাকের ডিম নষ্ট করার চেষ্টা করলেও, নিজেদের কড়া পাহারায় কাকেরা তা রুখে দেয়। কোনো কারণে বাচ্চা নিচে পড়ে গেলে সম্মিলিত কা-কা শব্দে পুরো এলাকা মাতিয়ে তুলে একে অন্যকে সতর্ক করার প্রবণতাও এদের মধ্যে দেখা যায়।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ কে এম আনোয়ারুল হক জানান, দক্ষিণ আমেরিকা ব্যতীত উষ্ণমণ্ডলীয় প্রায় সব মহাদেশ ও বেশ কিছু দ্বীপ অঞ্চলে কাকের বিস্তৃতি রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় কাকের অবদান অনস্বীকার্য। সাধারণত অধিকাংশ প্রজাতির কাক ১০ থেকে ১৫ বছর বেঁচে থাকে। দ্রুত নগরায়ণ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এই পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল হারাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 05:53:27 am, Thursday, 5 November 2026

গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পরিচিত পাখি কাক

Update Time : 05:53:27 am, Thursday, 5 November 2026

একসময় গ্রামবাংলার ভোর শুরু হতো কাকের কর্কশ কা-কা ডাকে, যা ঘুম ভাঙাতো সর্বস্তরের মানুষের। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন বিরল হয়ে পড়েছে। সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ‘প্রকৃতির ডাস্টবিন’ হিসেবে পরিচিত এই পাখিটি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। পৃথিবীতে প্রায় ৪০ প্রজাতির কাকের অস্তিত্ব থাকলেও বাংলাদেশে প্রধানত দুই ধরনের কাক বেশি চোখে পড়তো। এর মধ্যে আকারে বড় দাড় কাক এবং তুলনামূলক ছোট পাতী কাকই আমাদের পরিবেশে বেশি দেখা যেত। জানাযায়, পৃথিবীতে ৪০ প্রকৃতির কাক থাকলেও সিরাজগঞ্জে সাধারনত দুই প্রকার দুই প্রকারের কাক বেশী দেখা যেতো। অতীতে গ্রাম বাঙলায় ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই কাকদের কা-কা ডাকে লোকালয় মুখোর হয়ে উঠতো। ঘুম থেকে জেগে উঠত আবাল বৃদ্ধ বনিতা। কাকদের কাছ থেকে মানুষ অনেক উপকার পায়।

পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, কাককে পাখিকুলের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান বিবেচনা করা হয়। কলস থেকে বুদ্ধি খাটিয়ে পাথর ফেলে পানি খাওয়ার গল্পটি এদের বুদ্ধিমত্তার অন্যতম নিদর্শন। এরা মূলত হাঁস-মুরগির ছানা, পোকামাকড়, ফলমূল, ফসলের বীজ, পাখির ডিম এমনকি সাপ ও ব্যাঙ খেয়ে বেঁচে থাকে। এছাড়া পচা-বাসি খাবার, মরা ইঁদুর ও বিড়ালের মতো বর্জ্য পরিষ্কার করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। মজার ব্যাপার হলো, নোংরা খাবার খেলেও এরা নিজের শরীর পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত গোসল করে। কাকের বুদ্ধির একটি গল্প কলসের মধ্যে পাথর ফেলে পানি ঠোঁটের নাগালে আনার গল্প শোনা যায়। তাছাড়া মরা ইদুর, মরা বিড়াল, পঁচা-বাসী খাবার নিয়মিত ভাবে পরিস্কার করে, কারণ এগুলোই তাদের খাবার।

কাকের বাসা তৈরির প্রক্রিয়াটিও বেশ বৈচিত্র্যময়। প্লাস্টিক, ফিতা, রশি, কাপড়ের টুকরো, উল, তুলা, লোহার তার ও পলিথিনের মতো পরিত্যক্ত সামগ্রী ব্যবহার করে এরা অগোছালোভাবে বাসা বাঁধে। পেঁচা, চড়ুই বা চিলের মতো পাখিরা প্রায়ই কাকের ডিম নষ্ট করার চেষ্টা করলেও, নিজেদের কড়া পাহারায় কাকেরা তা রুখে দেয়। কোনো কারণে বাচ্চা নিচে পড়ে গেলে সম্মিলিত কা-কা শব্দে পুরো এলাকা মাতিয়ে তুলে একে অন্যকে সতর্ক করার প্রবণতাও এদের মধ্যে দেখা যায়।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ কে এম আনোয়ারুল হক জানান, দক্ষিণ আমেরিকা ব্যতীত উষ্ণমণ্ডলীয় প্রায় সব মহাদেশ ও বেশ কিছু দ্বীপ অঞ্চলে কাকের বিস্তৃতি রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় কাকের অবদান অনস্বীকার্য। সাধারণত অধিকাংশ প্রজাতির কাক ১০ থেকে ১৫ বছর বেঁচে থাকে। দ্রুত নগরায়ণ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এই পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল হারাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।