গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে যা বললেন চিত্রনায়িকা পরীমণি
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মামলায় জামিন আবেদন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রেক্ষিতে আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, যেহেতু পরোয়ানা জারি হয়ে গেছে, তাই আইন মেনে আদালতে হাজির হওয়া ছাড়া তার আর কোনো বিকল্প নেই।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার প্রভাব নিজের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ছে বলে আক্ষেপ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে তার জীবনের পরিস্থিতি বেশ কঠিন এবং এই মামলার কারণে তাকে প্রচণ্ড হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটি মোটেও আরামদায়ক কোনো বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন পরীমণি। তিনি বলেন, “এই জীবনে যা হচ্ছে, এসব তো খুব একটা আরামের না। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে গালমন্দ করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে ওইদিন পরীমণি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি এবং তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তার জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২২ সালের ৬ জুলাই, যখন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার আদালতে পরীমণি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে পরীমণি ও তার সঙ্গীরা মদ্যপান করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি বাদীকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল মদের বোতল ফ্রি দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
বাদী আরও দাবি করেন, এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমণি তার দিকে সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন, যার ফলে নাসির উদ্দিন মাথায় ও বুকে আঘাত পান। মামলার অভিযোগে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে পিবিআই পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি। পাশাপাশি হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন।
পরবর্তীতে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালত পরীমণি ও জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য যে, এই বোট ক্লাবের ঘটনার জের ধরে পরীমণি নিজেও সাভার থানায় নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার পাল্টা মামলা করেছিলেন, যা বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।






















