1:36 pm, Thursday, 5 November 2026

নির্বাচনে ভরাডুবির পর রিপাবলিকান শিবিরে একে অপরকে দোষারোপ

গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক নির্বাচনি রাত পার করার পর রিপাবলিকান পার্টির অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র আত্মসমালোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের শীর্ষ নেতাদের একে অপরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন মহলে এই পরাজয়কে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে মাগা আন্দোলনের প্রভাব কমে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

নির্বাচনে বড় ধরনের এই পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইরান ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্রই এখন ইরান সংঘাত থেকে নিজেদের দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এর অন্যতম উদাহরণ হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ‘আমরা যুদ্ধের কারণে হেরেছি। এখান থেকে কোথায় যাওয়া উচিত, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা সেখান থেকেই শুরু হতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ট্রাম্পের নীতির দায় থেকে নিজেকে মুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য তিনি আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের এই বক্তব্যের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে অনিচ্ছাসত্ত্বেও একমত পোষণ করেছেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তে কোনো ভুল ছিল না। তার ভাষায়, ‘আপনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিতে পারেন না।’ সেই পরিস্থিতি আবার এলেও তিনি ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন না বলেও দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের এই ফলাফল নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 06:23:30 am, Thursday, 5 November 2026

নির্বাচনে ভরাডুবির পর রিপাবলিকান শিবিরে একে অপরকে দোষারোপ

Update Time : 06:23:30 am, Thursday, 5 November 2026

গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক নির্বাচনি রাত পার করার পর রিপাবলিকান পার্টির অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র আত্মসমালোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের শীর্ষ নেতাদের একে অপরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন মহলে এই পরাজয়কে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে মাগা আন্দোলনের প্রভাব কমে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

নির্বাচনে বড় ধরনের এই পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইরান ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্রই এখন ইরান সংঘাত থেকে নিজেদের দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এর অন্যতম উদাহরণ হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ‘আমরা যুদ্ধের কারণে হেরেছি। এখান থেকে কোথায় যাওয়া উচিত, সে বিষয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা সেখান থেকেই শুরু হতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ট্রাম্পের নীতির দায় থেকে নিজেকে মুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য তিনি আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের এই বক্তব্যের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে অনিচ্ছাসত্ত্বেও একমত পোষণ করেছেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তে কোনো ভুল ছিল না। তার ভাষায়, ‘আপনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিতে পারেন না।’ সেই পরিস্থিতি আবার এলেও তিনি ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন না বলেও দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের এই ফলাফল নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।