3:47 pm, Sunday, 1 November 2026

প্রধানমন্ত্রী |: উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে

তরুণদের মেধা, দক্ষতা ও মেধাভিত্তিক উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ নির্মাণ, জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১ নভেম্বর) উদ্‌যাপিত হতে যাওয়া ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা জানান। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দনও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উদ্ভাবনী উদ্যোগ যেন অর্থাভাবে থেমে না যায়, সেজন্য দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে বাজেট বরাদ্দের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুবসমাজকে সংগঠিত ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠনের সিদ্ধান্ত নেন, যা পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ১৯৮১ সালে গঠন করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যুবকদের স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়টি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি পায়। তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

বাণীতে জানানো হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ যুবক আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুঁজে নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন, যাদের অনেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বা তারও বেশি আয় করছেন। এ ছাড়া যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংস্থান সহজ করতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ প্রদান করা হয়েছে। কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি উপার্জন করছেন।

জাতীয় অগ্রগতিতে অবদানের জন্য এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী ও যুব সংগঠককে ‘জাতীয় যুব পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ বছরের পুরষ্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আধুনিক ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা তরুণদের ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ সুগম করছে। জাতীয় যুব পুরস্কারকে যুবসমাজের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে অবদানের জন্য এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে ওঠা তরুণদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

পরিবেশ সুরক্ষায় যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। আগামী দিনের বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো নতুন নতুন খাতে প্রশিক্ষণ পরিধি বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাণীর শেষাংশে তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারেক রহমান। এ বছরের যুব দিবসের মূল প্রতিপাদ্য—‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের নেতৃত্ব বিকাশ ও সার্বিক উন্নয়নে যুবসমাজের সক্রিয় ভূমিকা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 02:34:07 am, Sunday, 1 November 2026

প্রধানমন্ত্রী |: উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে

Update Time : 02:34:07 am, Sunday, 1 November 2026

তরুণদের মেধা, দক্ষতা ও মেধাভিত্তিক উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ নির্মাণ, জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১ নভেম্বর) উদ্‌যাপিত হতে যাওয়া ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা জানান। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দনও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উদ্ভাবনী উদ্যোগ যেন অর্থাভাবে থেমে না যায়, সেজন্য দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে বাজেট বরাদ্দের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুবসমাজকে সংগঠিত ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠনের সিদ্ধান্ত নেন, যা পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ১৯৮১ সালে গঠন করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যুবকদের স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়টি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি পায়। তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

বাণীতে জানানো হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ যুবক আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুঁজে নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন, যাদের অনেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বা তারও বেশি আয় করছেন। এ ছাড়া যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংস্থান সহজ করতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ প্রদান করা হয়েছে। কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি উপার্জন করছেন।

জাতীয় অগ্রগতিতে অবদানের জন্য এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী ও যুব সংগঠককে ‘জাতীয় যুব পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ বছরের পুরষ্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আধুনিক ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা তরুণদের ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ সুগম করছে। জাতীয় যুব পুরস্কারকে যুবসমাজের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে অবদানের জন্য এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নারী-পুরুষ ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে ওঠা তরুণদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

পরিবেশ সুরক্ষায় যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। আগামী দিনের বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো নতুন নতুন খাতে প্রশিক্ষণ পরিধি বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাণীর শেষাংশে তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারেক রহমান। এ বছরের যুব দিবসের মূল প্রতিপাদ্য—‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের নেতৃত্ব বিকাশ ও সার্বিক উন্নয়নে যুবসমাজের সক্রিয় ভূমিকা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।