ট্রাম্পের মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি ‘ভুয়া’ বলল হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে রদবদলের জোর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের দাবিকে ভিত্তিহীন ও ‘ভুয়া খবর’ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দুই পক্ষই এসব প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে।
হেগসেথকে সরানোর চাপ ও ইরান যুদ্ধ
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ভূমিকার কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকেরা। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স—উভয়েই নির্বাচনে দলের এই হারের পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। এই পরাজয়ের ফলে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ডেমোক্রেটদের হাতে চলে যাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। তবে হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তুলনামূলক বেশি। এ কারণে রাজনৈতিক নাটক ও প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টায় তারা ব্যস্ত।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ
অন্যদিকে বিদায়ী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তিনি কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, আগামী জানুয়ারিতে ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে সিনেটে নতুন কোনো বিকল্প প্রার্থিতা অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তার মতে, সিনেটে বিকল্প প্রার্থীদের অনুমোদন করিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
হেগসেথের প্রতিক্রিয়া ও সামরিক রদবদলের সম্ভাবনা
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিশংসনের উদ্যোগের জবাবে এক ভিডিও বার্তায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, “দেখুন, তারা আমাকে আক্রমণ করে। তারা আমাদের আক্রমণ করে, কারণ আমরা কাজ করতে সক্ষম। এটা কাজে আসবে না। আমরা পিছু হটব না।” অভিশংসনের উদ্যোগকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একজন অসন্তুষ্ট ও পরাজিত কংগ্রেস সদস্য ডেমোক্রেট মিত্রদের নিয়ে এই ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করছেন। হেগসেথ উল্লেখ করেন যে তিনি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নে সামরিক বাহিনীর নিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা শিল্পের পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্যবিষয়ক অপ্রয়োজনীয় নীতি বাতিল করেছেন। ডেমোক্রেটদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের নীতি ব্যর্থ হওয়ায় তারা ব্যক্তিগত ধ্বংসের রাজনীতিতে মেতেছে। এছাড়া হেগসেথের টেনেসির শূন্য সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুঞ্জনও রয়েছে। এদিকে, টেনেসির শূন্য হওয়া সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ থাকতে পারে হেগসেথের—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।
একই সঙ্গে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় গত আট মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকেও সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্প বিবেচনা করতে পারেন।
ট্রাম্পের সমর্থন ও মার্কো রুবিওর বক্তব্য
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, হেগসেথকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন তরফ থেকে ফোন পেয়েছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্বে বহাল রাখার বিষয়ে তার পূর্ণ ইচ্ছা রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।” ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ইরানে সামরিক সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ার খবর পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কো রুবিও। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি। আর যখন তারা বলে যে তিনি চাকরি ছাড়তে যাচ্ছেন, তখন আমি সব সময় হেসে বলি, কোন চাকরি?” ট্রাম্পের পুরো মেয়াদে তার সঙ্গে কাজ করাই রুবিওর মূল লক্ষ্য বলে তিনি পরিষ্কার জানান। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তার হয়ে কাজ করাই সব সময় তার পরিকল্পনা ছিল।





















