2:46 pm, Friday, 6 November 2026

ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি হুথিদের

ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান আলোচনাপ্রক্রিয়ায় নতুন মোড় নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। গত ৫ নভেম্বর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বছরের পর বছর ধরে চালানো বিমান হামলা এবং কঠোর অবরোধের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায়ভার মেটাতেই এই বিশাল অর্থ দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি কোনো পক্ষই। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা বৃদ্ধি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সৌদি আরব নড়েচড়ে বসেছে। সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে রিয়াদ হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে এই ক্ষতিপূরণ দাবির পাশাপাশি তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, হুথিদের ইয়েমেনের বৈধ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানেই সেই গোষ্ঠীকে বৈধতা দেওয়া, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরব সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বর্তমান ইয়েমেনি সরকারের অবস্থানও বেশ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন নতুন করে জটিল আকার ধারণ করেছে। এডেনের নিকটবর্তী এলাকায় হুথিরা তাদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী করেছে, যা সরকারের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার কারণে রিয়াদের ওপর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এমন একটি চুক্তিতে আগ্রহী, যা দীর্ঘমেয়াদে সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদিও নতুন করে সেনা মোতায়েনের ঝুঁকি বা দেশের ভেতর সমালোচনার ভয়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিষয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সৌদি আরব কিছুটা কোণঠাসা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত হুথিবিরোধী সামরিক তৎপরতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ইয়েমেনে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে জড়ানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ সংঘাতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব প্রেক্ষাপটে ইরান-হুথি ঘনিষ্ঠতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৌদি আরবের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সহায়তা ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে ইরানের ভূমিকার কারণে হুথিদের হামলা সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছালে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারণ করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসবে। তবে ইয়েমেনে নতুন করে সৌদি সেনা পাঠালে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি এবং দেশের ভেতরে সমালোচনা তৈরি হতে পারে। হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক এবং সৌদি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের জন্য তৈরি হওয়া হুমকি এ সংঘাতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 02:13:23 am, Friday, 6 November 2026

ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি হুথিদের

Update Time : 02:13:23 am, Friday, 6 November 2026

ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান আলোচনাপ্রক্রিয়ায় নতুন মোড় নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। গত ৫ নভেম্বর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বছরের পর বছর ধরে চালানো বিমান হামলা এবং কঠোর অবরোধের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায়ভার মেটাতেই এই বিশাল অর্থ দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি কোনো পক্ষই। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা বৃদ্ধি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সৌদি আরব নড়েচড়ে বসেছে। সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে রিয়াদ হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে এই ক্ষতিপূরণ দাবির পাশাপাশি তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, হুথিদের ইয়েমেনের বৈধ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানেই সেই গোষ্ঠীকে বৈধতা দেওয়া, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরব সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বর্তমান ইয়েমেনি সরকারের অবস্থানও বেশ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন নতুন করে জটিল আকার ধারণ করেছে। এডেনের নিকটবর্তী এলাকায় হুথিরা তাদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী করেছে, যা সরকারের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার কারণে রিয়াদের ওপর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এমন একটি চুক্তিতে আগ্রহী, যা দীর্ঘমেয়াদে সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদিও নতুন করে সেনা মোতায়েনের ঝুঁকি বা দেশের ভেতর সমালোচনার ভয়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিষয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সৌদি আরব কিছুটা কোণঠাসা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত হুথিবিরোধী সামরিক তৎপরতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ইয়েমেনে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে জড়ানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ সংঘাতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব প্রেক্ষাপটে ইরান-হুথি ঘনিষ্ঠতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৌদি আরবের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সহায়তা ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে ইরানের ভূমিকার কারণে হুথিদের হামলা সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছালে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারণ করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসবে। তবে ইয়েমেনে নতুন করে সৌদি সেনা পাঠালে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি এবং দেশের ভেতরে সমালোচনা তৈরি হতে পারে। হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক এবং সৌদি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের জন্য তৈরি হওয়া হুমকি এ সংঘাতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত করেছে।