3:08 pm, Friday, 6 November 2026

ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়তে পারেন রুবিওসহ ৫ শীর্ষ কর্মকর্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। ২০২৮ সালের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি এই পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। বর্তমানে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তাকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে এই দৌড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর ট্রাম্পের বর্তমান মন্ত্রিসভার অন্তত চার থেকে পাঁচজন সদস্য প্রশাসন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক দায় থেকে নিজেকে সরিয়ে ট্রাম্পের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া রুবিওর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, এই মুহূর্তে প্রশাসন থেকে সরে আসা তার জন্য যৌক্তিক সিদ্ধান্ত, কারণ সরকারি পদে থেকে নির্বাচনী প্রচার চালানো সম্ভব নয়। এছাড়া বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তার ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেই যুদ্ধের দায় নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, কেন তারা হেরেছেন তা সবার কাছেই পরিষ্কার এবং প্রেসিডেন্ট নিজেও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে রুবিওকে অনেকটা আড়ালে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং ইয়েভেট কুপারের মতো ব্রিটিশ রাজনীতিকদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। ইয়েভেট কুপার তাকে অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ আলোচক হিসেবে প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্য সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, রুবিও প্রশাসনে দীর্ঘ সময় থাকবেন না বলে তারা মনে করছেন।

ট্রাম্পের সাথে রুবিওর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। এক সময় ট্রাম্প তাকে ‘লিটল মার্কো’ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেও বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের পর তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে লাতিন আমেরিকা নীতিতে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

যদিও গত সেপ্টেম্বরে নিজের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, আপাতত প্রশাসনের কাজে মনোযোগী থাকতে চান। ভ্যান্স নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি সরে দাঁড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এদিকে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল রুবিওর পদত্যাগের খবরকে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও প্রতিবেদনটিকে ভুয়া খবর হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বর্তমানে রুবিওর পদত্যাগের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে হোয়াইট হাউস সূত্র দাবি করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 01:53:11 am, Friday, 6 November 2026

ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়তে পারেন রুবিওসহ ৫ শীর্ষ কর্মকর্তা

Update Time : 01:53:11 am, Friday, 6 November 2026

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। ২০২৮ সালের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি এই পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। বর্তমানে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তাকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে এই দৌড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর ট্রাম্পের বর্তমান মন্ত্রিসভার অন্তত চার থেকে পাঁচজন সদস্য প্রশাসন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক দায় থেকে নিজেকে সরিয়ে ট্রাম্পের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া রুবিওর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, এই মুহূর্তে প্রশাসন থেকে সরে আসা তার জন্য যৌক্তিক সিদ্ধান্ত, কারণ সরকারি পদে থেকে নির্বাচনী প্রচার চালানো সম্ভব নয়। এছাড়া বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তার ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেই যুদ্ধের দায় নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, কেন তারা হেরেছেন তা সবার কাছেই পরিষ্কার এবং প্রেসিডেন্ট নিজেও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে রুবিওকে অনেকটা আড়ালে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং ইয়েভেট কুপারের মতো ব্রিটিশ রাজনীতিকদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। ইয়েভেট কুপার তাকে অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ আলোচক হিসেবে প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্য সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, রুবিও প্রশাসনে দীর্ঘ সময় থাকবেন না বলে তারা মনে করছেন।

ট্রাম্পের সাথে রুবিওর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। এক সময় ট্রাম্প তাকে ‘লিটল মার্কো’ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেও বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের পর তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে লাতিন আমেরিকা নীতিতে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

যদিও গত সেপ্টেম্বরে নিজের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, আপাতত প্রশাসনের কাজে মনোযোগী থাকতে চান। ভ্যান্স নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি সরে দাঁড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এদিকে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল রুবিওর পদত্যাগের খবরকে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও প্রতিবেদনটিকে ভুয়া খবর হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বর্তমানে রুবিওর পদত্যাগের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে হোয়াইট হাউস সূত্র দাবি করেছে।