11:08 am, Thursday, 29 October 2026

হুথিদের হামলা বন্ধে ইরানের মধ্যস্থতায় ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন ঠেকাতে এবং যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করতে ইরানের মধ্যস্থতায় ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের এক প্রতিবেদনে উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যদিও এই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। জানা গেছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফরের সময় এই আলোচনার সূত্রপাত হয়, যেখানে ইরানকে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিছু দাবি অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ব্যবহৃত সামরিক বিমানেই এই বিশাল অর্থ বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অবশ্য বলা হয়েছে, প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের তেহরান সফরের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমন, সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং কূটনৈতিক সমাধান ত্বরান্বিত করা। সেই সাথে কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সংহত করাও ছিল তাদের অন্যতম লক্ষ্য। উক্ত বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকর্তারা।

সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হুথিদের একের পর এক হামলার কারণে দেশটির অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এর জেরে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলনও স্থগিতের ঘোষণা দিতে হয়। এ বিষয়ে ইসরায়েল হায়োমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক সৌদি কর্মকর্তা জানান, তিন বছর আগের একটি চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হুথিনিয়ন্ত্রিত এলাকার নাগরিক অবকাঠামো মেরামত এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রদানে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল।

বিনিময়ে হুথিদের হামলা বন্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু সৌদি আরব কথা রাখেনি—এমন অভিযোগে হুথিরা পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ১০০ কোটি ডলারের এই নতুন প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না এবং এটি সংঘাত নিরসনে কোনো স্থায়ী ভূমিকা রাখবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 03:42:01 am, Thursday, 29 October 2026

হুথিদের হামলা বন্ধে ইরানের মধ্যস্থতায় ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

Update Time : 03:42:01 am, Thursday, 29 October 2026

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন ঠেকাতে এবং যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত করতে ইরানের মধ্যস্থতায় ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের এক প্রতিবেদনে উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যদিও এই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। জানা গেছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফরের সময় এই আলোচনার সূত্রপাত হয়, যেখানে ইরানকে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিছু দাবি অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ব্যবহৃত সামরিক বিমানেই এই বিশাল অর্থ বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অবশ্য বলা হয়েছে, প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের তেহরান সফরের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমন, সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং কূটনৈতিক সমাধান ত্বরান্বিত করা। সেই সাথে কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সংহত করাও ছিল তাদের অন্যতম লক্ষ্য। উক্ত বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকর্তারা।

সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হুথিদের একের পর এক হামলার কারণে দেশটির অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এর জেরে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলনও স্থগিতের ঘোষণা দিতে হয়। এ বিষয়ে ইসরায়েল হায়োমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক সৌদি কর্মকর্তা জানান, তিন বছর আগের একটি চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হুথিনিয়ন্ত্রিত এলাকার নাগরিক অবকাঠামো মেরামত এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রদানে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল।

বিনিময়ে হুথিদের হামলা বন্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু সৌদি আরব কথা রাখেনি—এমন অভিযোগে হুথিরা পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ১০০ কোটি ডলারের এই নতুন প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না এবং এটি সংঘাত নিরসনে কোনো স্থায়ী ভূমিকা রাখবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।