12:01 pm, Thursday, 29 October 2026

আজ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জন্মদিন

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপনকারী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জন্মদিন আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গ করা সাত বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে অন্যতম এই অকুতোভয় বীরের জন্ম ১৯৪১ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডে। তার বাবা মৌলবি আবদুস সামাদ এবং মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। তাদের আদি নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে।

মতিউর রহমান ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর পাকিস্তানের সারগোদায় বিমানবাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৬৩ সালে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদায় উন্নীত হয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছুটিতে দেশে এসে মতিউর রহমান স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে শুরু করেন। ভৈরব এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে একটি প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে উড্ডয়নকালে তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সাহসী চেষ্টা করেন। কিন্তু পাকিস্তানের থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হলে তিনি শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করে। দেশের ইতিহাসের পাতায় তার এই অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 04:26:18 am, Thursday, 29 October 2026

আজ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জন্মদিন

Update Time : 04:26:18 am, Thursday, 29 October 2026

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপনকারী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জন্মদিন আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গ করা সাত বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে অন্যতম এই অকুতোভয় বীরের জন্ম ১৯৪১ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডে। তার বাবা মৌলবি আবদুস সামাদ এবং মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। তাদের আদি নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে।

মতিউর রহমান ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর পাকিস্তানের সারগোদায় বিমানবাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৬৩ সালে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদায় উন্নীত হয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছুটিতে দেশে এসে মতিউর রহমান স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে শুরু করেন। ভৈরব এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে একটি প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে উড্ডয়নকালে তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সাহসী চেষ্টা করেন। কিন্তু পাকিস্তানের থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হলে তিনি শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করে। দেশের ইতিহাসের পাতায় তার এই অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।