12:00 pm, Wednesday, 4 November 2026

সাফ ফুটবল উৎসবে মাতবে ঢাকা: শুরু হচ্ছে ১৫তম আসর

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরের। এর আগে ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিল, এবার চতুর্থবারের মতো আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামছে লাল-সবুজের দল। ৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ ঢাকার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী দিনে বেলা সাড়ে ৩টায় ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হবে, আর রাত ৮টায় ভুটানের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ হবে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে এখন উৎসবের আমেজ। তবে অতীতের আসরে তুলনায় এবার প্রচার ও আমেজপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালেই টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে আয়োজক দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা নিজেদের সীমাবদ্ধতার কারণে সরে দাঁড়ালে পরিস্থিতি জটিল হয়। পরে বাংলাদেশ নতুন আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব নেয় এবং এক বছর পিছিয়ে আসরটি মাঠে গড়াচ্ছে। টুর্নামেন্ট ঘিরে জাতীয় স্টেডিয়ামে বিদেশি ফুটবলারদের পদচারণা শুরু হলেও, প্রচারণার ঘাটতি ও বাফুফের সাথে সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত উত্তেজনা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে। যদিও ২০০৩ সালের চ্যাম্পিয়ন দল ও ২০১০ সালের এসএ গেমস স্বর্ণজয়ী দলের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে, তবু মাঠের লড়াই শুরু হলে দর্শক আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু নানা জটিলতায় টুর্নামেন্ট এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি ফুটবলারের উপস্থিতিতে মুখর জাতীয় স্টেডিয়াম।

সাফের ইতিহাসে একমাত্র শিরোপাটি ২০০৩ সালে আমিনুল হকের নেতৃত্বে ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশ। সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবার একঝাঁক প্রবাসী ও স্থানীয় অভিজ্ঞ ও তরুণদের নিয়ে দল সাজিয়েছেন কোচ থমাস ডুলি। দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপার আক্ষেপ ঘোচাতে ডুলি প্রতিটি ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দলের প্রতি আত্মবিশ্বাস জানিয়ে তিনি জানান, জয়ের লক্ষ্যেই তারা প্রতিটি ম্যাচে সেরাটা দেবেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই।’।

এদিকে, বর্তমান শিরোপাধারী ভারত এবার তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ঢাকায় এসেছে। ভারতীয় কোচ নওশাদ মুসা সাফ শিরোপা জয়ের উচ্চাশা ব্যক্ত করলেও বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মুসা মনে করেন, শক্তিশালী বাংলাদেশ ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে। তিনি জানান, তাদের দল খুব একটা খারাপ নয় এবং শিরোপা ধরে রাখতে তারা আত্মবিশ্বাসী। তবে ভারতকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, কারণ ২০০৯ সালের আসরেও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে খেলে ফাইনালে মালদ্বীপকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তবে যে দলটি পেয়েছি, সেটিও খারাপ নয়।

টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতার মান নিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, শ্রীলঙ্কার প্রবাসী ফুটবলার ও পাকিস্তান দলের ইউরোপীয় লিগ খেলা খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে। পাকিস্তান জাতীয় দলেও অনেক বংশোদ্ভূত ফুটবলার রয়েছেন, যা মাঠের লড়াইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে বাংলাদেশ এবার ঘরের মাঠে নতুন ইতিহাস গড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। আরো একবার ঘরের মাঠে ফুটবল আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 01:53:27 am, Wednesday, 4 November 2026

সাফ ফুটবল উৎসবে মাতবে ঢাকা: শুরু হচ্ছে ১৫তম আসর

Update Time : 01:53:27 am, Wednesday, 4 November 2026

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরের। এর আগে ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিল, এবার চতুর্থবারের মতো আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামছে লাল-সবুজের দল। ৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ ঢাকার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী দিনে বেলা সাড়ে ৩টায় ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হবে, আর রাত ৮টায় ভুটানের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ হবে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে এখন উৎসবের আমেজ। তবে অতীতের আসরে তুলনায় এবার প্রচার ও আমেজপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালেই টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে আয়োজক দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা নিজেদের সীমাবদ্ধতার কারণে সরে দাঁড়ালে পরিস্থিতি জটিল হয়। পরে বাংলাদেশ নতুন আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব নেয় এবং এক বছর পিছিয়ে আসরটি মাঠে গড়াচ্ছে। টুর্নামেন্ট ঘিরে জাতীয় স্টেডিয়ামে বিদেশি ফুটবলারদের পদচারণা শুরু হলেও, প্রচারণার ঘাটতি ও বাফুফের সাথে সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত উত্তেজনা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে। যদিও ২০০৩ সালের চ্যাম্পিয়ন দল ও ২০১০ সালের এসএ গেমস স্বর্ণজয়ী দলের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে, তবু মাঠের লড়াই শুরু হলে দর্শক আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু নানা জটিলতায় টুর্নামেন্ট এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি ফুটবলারের উপস্থিতিতে মুখর জাতীয় স্টেডিয়াম।

সাফের ইতিহাসে একমাত্র শিরোপাটি ২০০৩ সালে আমিনুল হকের নেতৃত্বে ঘরে তুলেছিল বাংলাদেশ। সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবার একঝাঁক প্রবাসী ও স্থানীয় অভিজ্ঞ ও তরুণদের নিয়ে দল সাজিয়েছেন কোচ থমাস ডুলি। দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপার আক্ষেপ ঘোচাতে ডুলি প্রতিটি ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দলের প্রতি আত্মবিশ্বাস জানিয়ে তিনি জানান, জয়ের লক্ষ্যেই তারা প্রতিটি ম্যাচে সেরাটা দেবেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই।’।

এদিকে, বর্তমান শিরোপাধারী ভারত এবার তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ঢাকায় এসেছে। ভারতীয় কোচ নওশাদ মুসা সাফ শিরোপা জয়ের উচ্চাশা ব্যক্ত করলেও বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মুসা মনে করেন, শক্তিশালী বাংলাদেশ ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে। তিনি জানান, তাদের দল খুব একটা খারাপ নয় এবং শিরোপা ধরে রাখতে তারা আত্মবিশ্বাসী। তবে ভারতকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, কারণ ২০০৯ সালের আসরেও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে খেলে ফাইনালে মালদ্বীপকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তবে যে দলটি পেয়েছি, সেটিও খারাপ নয়।

টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতার মান নিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, শ্রীলঙ্কার প্রবাসী ফুটবলার ও পাকিস্তান দলের ইউরোপীয় লিগ খেলা খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে। পাকিস্তান জাতীয় দলেও অনেক বংশোদ্ভূত ফুটবলার রয়েছেন, যা মাঠের লড়াইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে বাংলাদেশ এবার ঘরের মাঠে নতুন ইতিহাস গড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। আরো একবার ঘরের মাঠে ফুটবল আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।