3:47 pm, Sunday, 1 November 2026

আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে লা লিগায় জয়ে ফিরল বার্সেলোনা

টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ততা ভুলে আবারো দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম ১১ ম্যাচে ৪৯টি গোল করে দুর্দান্ত সূচনা করলেও পিএসজির কাছে ৪-২ এবং রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিল দলটি। তবে লা লিগার ম্যাচে আলাভেসকে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল কাতালান ক্লাবটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে করেছিল ৪৯ গোল। সেটা মুখ থুবড়ে পড়ে পিএসজির সামনে, প্যারিসে ৪-২ গোলের সেই হারের পর বার্সা রিয়াল মাদ্রিদের কাছেও হেরেছিল ২-১ গোলে। টানা দুই হারের গ্লানি ভুলেছে প্রতিপক্ষের জালে একে একে ৬ গোল জড়িয়ে, ৬-১ গোলের জয় নিয়ে আবারও জয়ে ফিরেছে দলটি। মৌসুমের শুরুটা বার্সেলোনা দুর্দান্তই করেছিল। তবে আলাভেসকে সামনে পেয়ে বার্সেলোনা জ্বলে উঠেছে আবার।

ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলে বার্সা। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে পেদ্রির দেওয়া থ্রু বল ধরে ফের্মিন লোপেজ পাস বাড়ান রাফিনিয়ার দিকে, যিনি নিখুঁত শটে দলকে প্রথম এগিয়ে নেন। ২৩ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফের্মিন নিজেই; ইয়ামালের পাস থেকে একটি দুরূহ কোণ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। মাঝে আবদে রেব্বাখ, আনহেল পেরেজ ও লুকাস বোইয়ে আলাভেসের হয়ে কয়েকটি সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

ম্যাচের ৪১ মিনিটে ফের্মিন মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাড়িয়ে দেন রাফিনিয়াকে। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়ে চমৎকার কার্ল করা শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নিচু শটে জালে বল পাঠান লামিন ইয়ামাল, যার ফলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় দল।

বিরতির পরেও আধিপত্য ধরে রাখা বার্সেলোনা পঞ্চম গোলের দেখা পায় ৬৪ মিনিটে। বেঞ্চ থেকে আসা গাব্রিয়েল জেসুসের পাসে ইয়ামাল চিপ করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন, যা অফসাইডের পতাকার পর ভিএআর (VAR) পরীক্ষা করে বহাল রাখা হয়। ৮১ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় অ্যান্টনি গর্ডন আলাভেসের আন্দের গেবারাকে গতিতে পরাস্ত করে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং গোলরক্ষক সিভেরার মাথার উপর দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়ান। তবে পরের গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৬৪ মিনিট পর্যন্ত।

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আলাভেস একটি গোল পরিশোধ করে বার্সেলোনার ক্লিন শিটের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। রদ্রির ভুল ব্যাকপাস ধরে জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করে ব্যবধান কমান মারিয়ানো দিয়াজ। এ জয়ের মাধ্যমে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক তার ১০০তম জয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন। মাত্র ১৩০ ম্যাচে এই অর্জন পূর্ণ করলেন তিনি, যেখানে তার চেয়ে কম অর্থাৎ ১২৬ ম্যাচে এই রেকর্ড গড়ার একক কৃতিত্ব ছিল লুইস এনরিকের। তার চেয়ে কম ম্যাচে এটি করেছেন শুধু লুইস এনরিকে, ১২৬ ম্যাচে ছুঁয়েছেন এই মাইলফলক।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 04:01:50 am, Sunday, 1 November 2026

আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে লা লিগায় জয়ে ফিরল বার্সেলোনা

Update Time : 04:01:50 am, Sunday, 1 November 2026

টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ততা ভুলে আবারো দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম ১১ ম্যাচে ৪৯টি গোল করে দুর্দান্ত সূচনা করলেও পিএসজির কাছে ৪-২ এবং রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিল দলটি। তবে লা লিগার ম্যাচে আলাভেসকে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরল কাতালান ক্লাবটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে করেছিল ৪৯ গোল। সেটা মুখ থুবড়ে পড়ে পিএসজির সামনে, প্যারিসে ৪-২ গোলের সেই হারের পর বার্সা রিয়াল মাদ্রিদের কাছেও হেরেছিল ২-১ গোলে। টানা দুই হারের গ্লানি ভুলেছে প্রতিপক্ষের জালে একে একে ৬ গোল জড়িয়ে, ৬-১ গোলের জয় নিয়ে আবারও জয়ে ফিরেছে দলটি। মৌসুমের শুরুটা বার্সেলোনা দুর্দান্তই করেছিল। তবে আলাভেসকে সামনে পেয়ে বার্সেলোনা জ্বলে উঠেছে আবার।

ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলে বার্সা। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে পেদ্রির দেওয়া থ্রু বল ধরে ফের্মিন লোপেজ পাস বাড়ান রাফিনিয়ার দিকে, যিনি নিখুঁত শটে দলকে প্রথম এগিয়ে নেন। ২৩ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফের্মিন নিজেই; ইয়ামালের পাস থেকে একটি দুরূহ কোণ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। মাঝে আবদে রেব্বাখ, আনহেল পেরেজ ও লুকাস বোইয়ে আলাভেসের হয়ে কয়েকটি সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

ম্যাচের ৪১ মিনিটে ফের্মিন মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাড়িয়ে দেন রাফিনিয়াকে। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়ে চমৎকার কার্ল করা শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নিচু শটে জালে বল পাঠান লামিন ইয়ামাল, যার ফলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় দল।

বিরতির পরেও আধিপত্য ধরে রাখা বার্সেলোনা পঞ্চম গোলের দেখা পায় ৬৪ মিনিটে। বেঞ্চ থেকে আসা গাব্রিয়েল জেসুসের পাসে ইয়ামাল চিপ করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন, যা অফসাইডের পতাকার পর ভিএআর (VAR) পরীক্ষা করে বহাল রাখা হয়। ৮১ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় অ্যান্টনি গর্ডন আলাভেসের আন্দের গেবারাকে গতিতে পরাস্ত করে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং গোলরক্ষক সিভেরার মাথার উপর দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়ান। তবে পরের গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৬৪ মিনিট পর্যন্ত।

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আলাভেস একটি গোল পরিশোধ করে বার্সেলোনার ক্লিন শিটের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। রদ্রির ভুল ব্যাকপাস ধরে জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করে ব্যবধান কমান মারিয়ানো দিয়াজ। এ জয়ের মাধ্যমে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক তার ১০০তম জয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন। মাত্র ১৩০ ম্যাচে এই অর্জন পূর্ণ করলেন তিনি, যেখানে তার চেয়ে কম অর্থাৎ ১২৬ ম্যাচে এই রেকর্ড গড়ার একক কৃতিত্ব ছিল লুইস এনরিকের। তার চেয়ে কম ম্যাচে এটি করেছেন শুধু লুইস এনরিকে, ১২৬ ম্যাচে ছুঁয়েছেন এই মাইলফলক।