পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার উপায় জানাল ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রতি পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কবার্তা নাগরিকদের মাঝে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ প্রায় আট মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যা মূলত তাদের বার্ষিক ‘প্যাসিভ ডিফেন্স সপ্তাহ’-এর অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের জুনের সংঘাতের সময় দেশটির সরকার জানিয়েছিল তেজস্ক্রিয়তা নির্দিষ্ট স্থাপনার বাইরে ছড়ায়নি, তবে এবারের ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক প্রচারণা নতুন করে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা জোরালো করেছে। শেষ কিছু দিন ধরেই বিষয়টা আছে আলোচনায়। ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
টেলিভিশনে প্রচারিত নির্দেশিকায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। প্রথম নির্দেশ হলো, বিস্ফোরণের উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকানো যাবে না এবং অবিলম্বে কোনো শক্তিশালী আড়ালের পেছনে আশ্রয় নিতে হবে। মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেভাবেই অবস্থান করতে হবে। ধাক্কা থেমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় নির্দেশ অনুযায়ী, কাছের কোনো ভবনের ভেতরে ঢুকে জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। এ সময় বাইরে দাঁড়িয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা, ছবি তোলা কিংবা গাড়িতে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তেজস্ক্রিয় ধুলা গায়ে লেগে থাকতে পারে।
তৃতীয় নির্দেশিকায় ত্বক ও শরীর পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা শরীর থেকে দূর করতে খোলা ত্বক সাবান ও কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার না করে সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গোসলের সুযোগ না থাকলে মুখ ও হাত ভেজা টিস্যু বা পানি দিয়ে মুছে নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। চতুর্থ নির্দেশে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে এবং এই সময়ে বোতলজাত পানি ও সংরক্ষিত খাবারের ওপর নির্ভর করতে হবে।
সর্বশেষ তথা পঞ্চম নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৪ ঘণ্টা পার হলেও চারপাশ পুরোপুরি নিরাপদ এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। ভবনের স্থায়িত্ব বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকলে সরকারি জরুরি সম্প্রচারের নির্দেশ মেনে আরও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে। মূলত, ঘটনার পরপর দ্রুত সতর্কতা অবলম্বন, সঠিক আশ্রয় খুঁজে নেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা মেনে চলাই এখন ইরানের নাগরিকদের জন্য প্রধান বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কেন তাড়াহুড়ো করে বাইরে যাওয়া যাবে না, নির্দেশিকায় তা-ও বলা হয়েছে। ভবনে আগুন লাগলে বা ধসে পড়ার ভয় থাকলে আরও নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হবে। নিরাপদ বলে নিশ্চিত না হয়ে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।






















