11:07 am, Wednesday, 4 November 2026

মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কাজে ফেরার আহ্বান পোশাক মালিকদের

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা কমিয়ে উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পোশাকশিল্প মালিকেরা। তারা মনে করছেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি আদায়ে রাজপথের চেয়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই কার্যকর ও যৌক্তিক পথ।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিটি আলোচনার টেবিলে সমাধান করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এর আগে ২০২১ সালের মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির নিয়ম ছিল। তবে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছরে নামিয়ে আনে এবং বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির হার ৯ শতাংশে উন্নীত করে। মালিকপক্ষ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। শ্রমিকদের অনুকূলে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত মালিকপক্ষও তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মেনে নিয়েছিল। শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান নিয়মতান্ত্রিক পথেই হওয়া উচিত। কারখানা বন্ধের সংখ্যা সম্পর্কে ফজলুল হক বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

ফজলুল হকের মতে, আগামী জানুয়ারিতেই তিন বছরের এই সময়সীমা শেষ হবে।

তাই আন্দোলনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি না করে নতুন মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ধৈর্য ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কেবল বেতন বৃদ্ধির দাবি করলেই হবে না, সেই বাড়তি আর্থিক চাপ সামলানোর সক্ষমতা কারখানাগুলোর আছে কি না, তা-ও বিবেচনায় রাখতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উত্তরা এলাকায় গত ৮-১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন কিছু মিছিলের মাধ্যমে অস্থিরতার পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

এদিকে, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের অসন্তোষের প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করাই এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করায় এখন আন্দোলনের পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি।

ফজলে শামীম এহসানের মতে, শিল্পাঞ্চলে কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির যৌক্তিকতা এবং শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা—উভয় দিক বিবেচনা করেই বোর্ডের মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বয় রেখে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। সরকারি মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন, তাই এই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখা এবং ধৈর্য দেখানোই এখন সবার জন্য সমীচীন।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 03:13:34 am, Wednesday, 4 November 2026

মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কাজে ফেরার আহ্বান পোশাক মালিকদের

Update Time : 03:13:34 am, Wednesday, 4 November 2026

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা কমিয়ে উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পোশাকশিল্প মালিকেরা। তারা মনে করছেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি আদায়ে রাজপথের চেয়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই কার্যকর ও যৌক্তিক পথ।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিটি আলোচনার টেবিলে সমাধান করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এর আগে ২০২১ সালের মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির নিয়ম ছিল। তবে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছরে নামিয়ে আনে এবং বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির হার ৯ শতাংশে উন্নীত করে। মালিকপক্ষ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। শ্রমিকদের অনুকূলে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত মালিকপক্ষও তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মেনে নিয়েছিল। শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান নিয়মতান্ত্রিক পথেই হওয়া উচিত। কারখানা বন্ধের সংখ্যা সম্পর্কে ফজলুল হক বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

ফজলুল হকের মতে, আগামী জানুয়ারিতেই তিন বছরের এই সময়সীমা শেষ হবে।

তাই আন্দোলনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি না করে নতুন মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ধৈর্য ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কেবল বেতন বৃদ্ধির দাবি করলেই হবে না, সেই বাড়তি আর্থিক চাপ সামলানোর সক্ষমতা কারখানাগুলোর আছে কি না, তা-ও বিবেচনায় রাখতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উত্তরা এলাকায় গত ৮-১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন কিছু মিছিলের মাধ্যমে অস্থিরতার পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

এদিকে, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের অসন্তোষের প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করাই এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করায় এখন আন্দোলনের পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি।

ফজলে শামীম এহসানের মতে, শিল্পাঞ্চলে কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির যৌক্তিকতা এবং শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা—উভয় দিক বিবেচনা করেই বোর্ডের মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বয় রেখে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। সরকারি মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন, তাই এই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখা এবং ধৈর্য দেখানোই এখন সবার জন্য সমীচীন।