12:48 pm, Wednesday, 4 November 2026

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষই হারালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের হাত থেকে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে। সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা এবারের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা।

গত ৫০ বছরে একই নির্বাচনি চক্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এক দল থেকে অন্য দলের হাতে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুবার। এবার ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতেও ভাঙন ধরিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প যে সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, সেই রাজ্যেই এবার সিনেট আসন জিতে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সেখানে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী জয় পেলেন। এছাড়া টেক্সাস ও কানসাসেও সিনেট আসন দখল করেছে দলটি; কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সিএনএনের ভোটার জরিপের তথ্যানুসারে, ১০ জনের মধ্যে ছয়জনেরও বেশি ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবস্থাকে আরও নাজুক করেছে। মূল্যস্ফীতি, ইরান যুদ্ধ, ব্যক্তিগত আচরণ এবং তার সম্পদ বাড়ার বিষয়টি ভোটারদের মনে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের বিষয়টি মোটামুটি প্রত্যাশিতই ছিল, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দলটির মাত্র তিনটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। এছাড়া সাধারণত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারিয়ে থাকে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এই জয়কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। আইওয়া, ওহাইও, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস ও কানসাসের মতো রাজ্যগুলোতে জয় নিশ্চিত করে দলটি এই সাফল্য পেয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এই জয় পেতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে দুই অঙ্কের ব্যবধানে হেরে যাওয়া একাধিক রাজ্যে জয় পেতে হয়েছে তাদের।

নির্বাচনের ভোট গণনা এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার চূড়ান্ত আকার সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে উভয় কক্ষে তাদের বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার পূর্বাভাস মিলেছে। যদিও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া মানেই সব আইন পাস করানো সহজ হবে এমন নয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের যেকোনো বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া সিনেটে আইন পাসের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় ৬০ ভোটের বাধ্যবাধকতা থাকে।

তবে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্ত করার ক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে, সমন জারি করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করা সহজ হবে তাদের জন্য। একই সঙ্গে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ থাকবে তাদের। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের শূন্য পদে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীর নিয়োগও আটকে দিতে পারবে বিরোধী দলটি। এসব তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করতে সমন জারির ক্ষমতাও পাবে দলটি।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 05:36:57 am, Wednesday, 4 November 2026

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষই হারালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Update Time : 05:36:57 am, Wednesday, 4 November 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের হাত থেকে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে। সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা এবারের নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা।

গত ৫০ বছরে একই নির্বাচনি চক্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এক দল থেকে অন্য দলের হাতে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুবার। এবার ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতেও ভাঙন ধরিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প যে সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, সেই রাজ্যেই এবার সিনেট আসন জিতে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সেখানে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী জয় পেলেন। এছাড়া টেক্সাস ও কানসাসেও সিনেট আসন দখল করেছে দলটি; কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সিএনএনের ভোটার জরিপের তথ্যানুসারে, ১০ জনের মধ্যে ছয়জনেরও বেশি ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবস্থাকে আরও নাজুক করেছে। মূল্যস্ফীতি, ইরান যুদ্ধ, ব্যক্তিগত আচরণ এবং তার সম্পদ বাড়ার বিষয়টি ভোটারদের মনে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের বিষয়টি মোটামুটি প্রত্যাশিতই ছিল, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দলটির মাত্র তিনটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। এছাড়া সাধারণত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারিয়ে থাকে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এই জয়কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। আইওয়া, ওহাইও, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস ও কানসাসের মতো রাজ্যগুলোতে জয় নিশ্চিত করে দলটি এই সাফল্য পেয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প দুই অঙ্কের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এই জয় পেতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে দুই অঙ্কের ব্যবধানে হেরে যাওয়া একাধিক রাজ্যে জয় পেতে হয়েছে তাদের।

নির্বাচনের ভোট গণনা এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার চূড়ান্ত আকার সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে উভয় কক্ষে তাদের বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার পূর্বাভাস মিলেছে। যদিও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া মানেই সব আইন পাস করানো সহজ হবে এমন নয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের যেকোনো বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া সিনেটে আইন পাসের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় ৬০ ভোটের বাধ্যবাধকতা থাকে।

তবে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্ত করার ক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে, সমন জারি করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করা সহজ হবে তাদের জন্য। একই সঙ্গে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ থাকবে তাদের। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের শূন্য পদে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীর নিয়োগও আটকে দিতে পারবে বিরোধী দলটি। এসব তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করতে সমন জারির ক্ষমতাও পাবে দলটি।