ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ইরানের কেশম দ্বীপে সোমবার মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সীমিত সামরিক অভিযানের সর্বশেষ ঘটনা। হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম এই দ্বীপে হামলার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে অল্প সময়ের ব্যবধানে পাঁচটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এমনকি স্থানীয়দের কয়েকজন আকাশে দুটি যুদ্ধবিমান উড়তে দেখার দাবিও করেছেন। তবে এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য না করে সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত এএফপির অনুরোধের প্রেক্ষিতেও সেন্টকমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ছোট পরিসরে সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের ভাষ্যমতে, এসব হামলা মূলত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতেই ইরানকে লক্ষ্য করে এই অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব হামলার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ধরনের বড় মাত্রার সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার বার্তা যাতে জনসমক্ষে না আসে, সেজন্যই ওয়াশিংটন বিষয়টি গোপন রাখছে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে যুদ্ধের প্রাদুর্ভাব ও ইরানের অবরোধের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে হামলার খবরের মধ্যেই চলমান সংঘাত নিরসনে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের এই ইতিবাচক অবস্থান বর্তমান উত্তেজনার পারদ কিছুটা কমিয়ে এনেছে। ইরানের অবরোধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আগে ব্যাপকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে সমঝোতার এই নতুন ইঙ্গিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যার ফলে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাত শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। তবে সংঘাতের অবসানে সম্ভাব্য চুক্তির আশায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমে যায়।






















