6:33 pm, Tuesday, 3 November 2026

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় হামলা ও বিস্ফোরণ

মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ভোরে দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া আধা-সরকারি সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতেও সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ ভেসে এসেছে। তবে এসব ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। হতাহত বা ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি।

মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিরাপদ রাখতে এবং ইরানকে কোনো ধরনের হুমকি বা বাধা তৈরির সক্ষমতা থেকে দূরে রাখতেই এই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’।

এমন এক উত্তেজনাকর সময়ে এই হামলার খবর সামনে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের সাথে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে গুরুত্বহীন বলে মনে করছেন। সোমবার ২ নভেম্বর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ হলেও তা বর্তমানে আর চলমান নেই, যদিও একে পুরোপুরি যুদ্ধ বলা যাবে কি না তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো সক্রিয় রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে। এই যোগাযোগ সহজতর করার লক্ষ্যে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সম্প্রতি দোহা সফর করেছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়, যা শেষ পর্যন্ত এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গড়ায়। এছাড়া গত ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেও প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 03:23:49 am, Tuesday, 3 November 2026

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় হামলা ও বিস্ফোরণ

Update Time : 03:23:49 am, Tuesday, 3 November 2026

মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ভোরে দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া আধা-সরকারি সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতেও সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ ভেসে এসেছে। তবে এসব ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। হতাহত বা ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি।

মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিরাপদ রাখতে এবং ইরানকে কোনো ধরনের হুমকি বা বাধা তৈরির সক্ষমতা থেকে দূরে রাখতেই এই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’।

এমন এক উত্তেজনাকর সময়ে এই হামলার খবর সামনে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের সাথে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে গুরুত্বহীন বলে মনে করছেন। সোমবার ২ নভেম্বর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ হলেও তা বর্তমানে আর চলমান নেই, যদিও একে পুরোপুরি যুদ্ধ বলা যাবে কি না তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো সক্রিয় রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে। এই যোগাযোগ সহজতর করার লক্ষ্যে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সম্প্রতি দোহা সফর করেছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়, যা শেষ পর্যন্ত এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গড়ায়। এছাড়া গত ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেও প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।