11:23 pm, Tuesday, 3 November 2026

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) চালানো এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে দেখা গেছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬টি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব হামলায় সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক লোকসান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান মূলত কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে অভিযান শুরু করেছিল। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান এবং বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কেন্দ্রের রাডার কাঠামো ধ্বংসের পর ড্রোনগুলো উড্ডয়ন কেন্দ্র, গুদাম ও সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতারে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একটি নজরদারি বিমান ও দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্যমতে, সামগ্রিকভাবে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও স্বাধীন বিশ্লেষণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে।

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তাদের বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিচ্ছে। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, কম খরচের ড্রোনের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন ক্ষয়ক্ষতি আধুনিক যুদ্ধের নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এই সংঘাত স্পষ্ট করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর মার্কিন নির্ভরতার দিন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 02:23:17 am, Tuesday, 3 November 2026

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

Update Time : 02:23:17 am, Tuesday, 3 November 2026

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) চালানো এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে দেখা গেছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬টি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব হামলায় সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক লোকসান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান মূলত কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে অভিযান শুরু করেছিল। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান এবং বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কেন্দ্রের রাডার কাঠামো ধ্বংসের পর ড্রোনগুলো উড্ডয়ন কেন্দ্র, গুদাম ও সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতারে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একটি নজরদারি বিমান ও দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্যমতে, সামগ্রিকভাবে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও স্বাধীন বিশ্লেষণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে।

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তাদের বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিচ্ছে। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, কম খরচের ড্রোনের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন ক্ষয়ক্ষতি আধুনিক যুদ্ধের নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এই সংঘাত স্পষ্ট করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর মার্কিন নির্ভরতার দিন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।