যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ, জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকবে। নির্বাচনে প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত। এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়ে তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই এবার নির্বাচন হচ্ছে। এর পাশাপাশি সিনেটের নিয়মিত ৩৩টি আসনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে ফ্লোরিডা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের দুটি শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাকি দুই বছরের মেয়াদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে, বিশেষ করে রিপাবলিকানদের জন্য উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
জনমত জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে আছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হতে হবে, যা অর্জনের ক্ষেত্রে তারা ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সিনেটের লড়াইটি বেশ তীব্র হচ্ছে, যেখানে বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। নির্বাচনপূর্ব বিভিন্ন জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দৌড়ে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২১৮টি আসন।
নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপ অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনায় সিনেট নির্বাচনে তুমুল প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে, সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী টেক্সাস, কানসাস ও মেইন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তবে অতীতে বহুবার জনমত জরিপের ফলের সঙ্গে প্রকৃত নির্বাচনের ফলাফলের পার্থক্য দেখা গেছে, তাই ভোটের ফল নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্তে এসে ডেমোক্র্যাটরা দোদুল্যমান ভোটারদের মন জয় করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনের প্রার্থী এল সাইদ জানিয়েছেন, তিনি মূলত জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ইস্যুগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। একই এলাকায় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা হ্যালি স্টিভেন্স শেষ মুহূর্তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আইওয়া ও কানসাসে বিশাল জনসভা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের কঠোর সমালোচনা করে ভোটারদের রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটরা সীমান্ত নিরাপত্তা শিথিল করতে চান এবং বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে আগ্রহী। আগামী দুই বছর কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে তিনি ভোটারদের অনুরোধ করেন।
নির্বাচনের পর যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যায়, তবে তার পাস করা যেকোনো বিলে ভেটো দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের সব বিলেই তিনি ভেটো প্রয়োগ করবেন এবং এর মাধ্যমে এক পর্যায়ে তিনি ডেমোক্র্যাটদের আলোচনায় বসে সমঝোতা করতে বাধ্য করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে একপর্যায়ে ডেমোক্র্যাটরা আলোচনায় বসতে এবং সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবেন বলে মনে করেন তিনি।





















