পোশাকশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান, জানুয়ারিতেই মিলবে বর্ধিত মজুরি
চলমান শ্রম অসন্তোষের পেক্ষাপটে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের অবিলম্বে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই যেন পোশাকশ্রমিকেরা তাদের নতুন নির্ধারিত ও বর্ধিত বেতন-ভাতা হাতে পান, সেই লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্ব করা হবে না।
সোমবার ঢাকার শ্রম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন। বাবুল আখতার উল্লেখ করেন, পোশাক খাতের কর্মী বাহিনীর জন্য একটি বাস্তবসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে দেশের বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়ভার, শ্রমিক পরিবারের মৌলিক চাহিদাসমূহ এবং তৈরি পোশাকশিল্পের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা হবে। এই প্রক্রিয়ায় শ্রমজীবী মানুষের ওপর কোনো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; বরং কারখানাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন, বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ শ্রমিক শ্রেণির মুক্ত পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মত অবস্থান তৈরি করা হবে।
তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদনশীলতা ও কর্ম পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে এই শ্রমিক প্রতিনিধি বলেন, অধিকার আদায়ের পাশাপাশি শিল্পকে টিকিয়ে রাখাও সমান জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের আটক, গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক হয়রানির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আন্দোলনকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অবিলম্বে নি শর্তে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নামে দায়ের করা সমস্ত হয়রানিমূলক মামলা এবং আইনি পদক্ষেপ দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান বাবুল আখতার।
সম্প্রতি শ্রম অসন্তোষ ও বেতন কাঠামোর পুনর্মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে গত রোববার সরকার শেখ আশফাকুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। জজ শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রাখা হয়েছে এ বি এম সামছুদ্দিন ও আসিফ আইয়ুবকে। পাশাপাশি শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাবুল আখতার ও আনোয়ার হোসাইন। বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। সংবাদ সম্মেলন থেকে তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার, কারখানার মালিক এবং শ্রমজীবী শ্রেণি—এই তিন পক্ষের কার্যকর সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়।





















