ব্যাংকিং কেলেঙ্কারিতে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা অপসারিত
ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়মের জেরে ক্ষমতা থেকে অপসারিত হয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে শুক্রবার শপথ গ্রহণ করেছেন ৫২ বছর বয়সী পেদ্রো আলিয়ানা। এর মধ্য দিয়ে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশটির ৫৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। আলিয়ানার শপথ গ্রহণের দিনই পেনার ক্ষমতার অবসান ঘটে। ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে নাম আসার পর অভিশংসনের মধ্য দিয়ে দ্রুত তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পেনার অপসারণের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। দেশের ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট সিনেটে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৪৪ জন সিনেটর তাঁকে অপসারণের পক্ষে রায় দেন। ভোটদানে বিরত ছিলেন মাত্র একজন। ক্ষমতাচ্যুতির পরপরই আস্থার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪৭ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। ২০২৩ সালের আগস্টে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।
পেনার এমন বিদায়ের মূলে রয়েছে উয়েনো ব্যাংকের আকস্মিক পতন।
এই ব্যাংকের সাথে প্রেসিডেন্ট পেনার স্বার্থের সংঘাত ছিল কি না এবং সরকারি সংস্থাগুলো ব্যাংকটির ওপর যথাযথ নজরদারি করেছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। গত মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, উয়েনো ব্যাংক তাদের নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এর অবশিষ্ট সম্পদ অন্য ব্যাংকগুলোতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সঙ্গে পেনার নিজের স্বার্থের সংঘাত ছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকটির ঋণ ও অন্যান্য বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নেই।
প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ৩০ লাখ মানুষ এই উয়েনো ব্যাংকের গ্রাহক ছিলেন। ব্যাংকটি দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরুর পর লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের হিসাব ও পেনশনের টাকা উত্তোলন করার সুযোগ হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সরকারি পেনশন তহবিলের প্রায় ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারও এই ব্যাংকে বিনিয়োগ করা ছিল, যা এখন হুমকির মুখে।
তদন্তকারী কৌঁসুলিরা খতিয়ে দেখছেন যে, সরকারের সাথে বিশেষ ঘনিষ্ঠতার সুবাদে উয়েনো ব্যাংক জবাবদিহিতা এড়িয়ে গিয়েছিল কি না। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান কার্লোস কারভালোর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ব্যাংকটির কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করতে ব্যর্থ হওয়ার দায় রয়েছে তাঁর ওপর। এই ঘটনার রেশ ধরে গত সপ্তাহেই তিনি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।
ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় শুক্রবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পেনা লিখেছেন, তিনি অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে বিদায় নিচ্ছেন এবং যারা বর্তমানে উত্তরের অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের সমস্যার গভীরতা তিনি উপলব্ধি করছেন। পেনার অপসারণের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। যাঁরা এখনো উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের কষ্টের বিষয়টি আমি পুরোপুরি উপলব্ধি করছি।’।























