4:36 pm, Saturday, 7 November 2026

নোয়াখালীর রেল উন্নয়নে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প, চালু হবে নতুন ট্রেন

নোয়াখালীর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চৌমুহনী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের কাজ পরিদর্শনকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এ তথ্য জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম ও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

পরিদর্শনকালে জনপ্রশাসন সচিব উল্লেখ করেন, প্ল্যাটফর্মের আকার ছোট হওয়ায় যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে ও নামতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সমস্যা নিরসনে প্ল্যাটফর্মের উল্টোদিকে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি নতুন অংশ যুক্ত করা হচ্ছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে ১৬টি কোচবিশিষ্ট ট্রেনের যাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া স্টেশনের সৌন্দর্যবর্ধন, মেঝে পেভিং এবং অ্যাকসেস কন্ট্রোল ব্যবস্থার অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নোয়াখালীবাসীর সুবিধার্থে বন্ধ হয়ে যাওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম জানান, লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত ৪৮ থেকে ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসনের জন্য গত ৫ নভেম্বর প্রায় ৪০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ক্ষয়প্রাপ্ত রেলপাত ও স্টিল স্লিপার পরিবর্তন, নতুন ব্যালাস্ট স্থাপন, আধুনিক ফিটিংস সংযোজন, ব্যাংক প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ এবং লেভেল ক্রসিংগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী প্রকল্পের অধীনে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার দরপত্র ডাকা হয়েছে। প্রতিটি ইঞ্জিনের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই ইঞ্জিন ও নতুন কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত হলে উপকূল এক্সপ্রেসের আধুনিকায়নের পাশাপাশি সুবর্ণচর এক্সপ্রেস চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 04:36:16 am, Saturday, 7 November 2026

নোয়াখালীর রেল উন্নয়নে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প, চালু হবে নতুন ট্রেন

Update Time : 04:36:16 am, Saturday, 7 November 2026

নোয়াখালীর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চৌমুহনী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের কাজ পরিদর্শনকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এ তথ্য জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম ও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

পরিদর্শনকালে জনপ্রশাসন সচিব উল্লেখ করেন, প্ল্যাটফর্মের আকার ছোট হওয়ায় যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে ও নামতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সমস্যা নিরসনে প্ল্যাটফর্মের উল্টোদিকে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি নতুন অংশ যুক্ত করা হচ্ছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে ১৬টি কোচবিশিষ্ট ট্রেনের যাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া স্টেশনের সৌন্দর্যবর্ধন, মেঝে পেভিং এবং অ্যাকসেস কন্ট্রোল ব্যবস্থার অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নোয়াখালীবাসীর সুবিধার্থে বন্ধ হয়ে যাওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম জানান, লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত ৪৮ থেকে ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসনের জন্য গত ৫ নভেম্বর প্রায় ৪০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ক্ষয়প্রাপ্ত রেলপাত ও স্টিল স্লিপার পরিবর্তন, নতুন ব্যালাস্ট স্থাপন, আধুনিক ফিটিংস সংযোজন, ব্যাংক প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ এবং লেভেল ক্রসিংগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’ চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী প্রকল্পের অধীনে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার দরপত্র ডাকা হয়েছে। প্রতিটি ইঞ্জিনের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই ইঞ্জিন ও নতুন কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত হলে উপকূল এক্সপ্রেসের আধুনিকায়নের পাশাপাশি সুবর্ণচর এক্সপ্রেস চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।