4:46 pm, Saturday, 7 November 2026

ইরান: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে এসব স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেগুলোর কার্যক্ষমতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়ার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে ২২৮টিরও বেশি স্থাপনা

জেনারেল আকরামনিয়ার ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি পয়েন্টে মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। আকরামনিয়া জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটিই আগের মতো অভিযান পরিচালনার অবস্থানে নেই। এসবের মধ্যে বেশ কিছু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থবিরতা

  • মার্কিন বাহিনীকে এখন যুদ্ধজাহাজের জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে নির্ভর করতে হচ্ছে।
  • ইরানি সামরিক মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, তারা কখনোই এই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের সামরিক নেটওয়ার্ক পুনরায় গড়ে তুলতে দেবেন না।
  • তবে ইরানের এই চাঞ্চল্যকর দাবি এবং মার্কিন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি বা কার্যক্ষমতার অবনতি নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ঘাঁটিগুলো এখন কেবল নামেই টিকে আছে। কৌশলগত এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ইরানের কঠোর অবস্থানে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের নীরবতা রহস্য তৈরি করেছে যে, তারা তাদের এই ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব কীভাবে সামাল দিচ্ছে বা ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 03:04:07 am, Saturday, 7 November 2026

ইরান: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না

Update Time : 03:04:07 am, Saturday, 7 November 2026

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে এসব স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেগুলোর কার্যক্ষমতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়ার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে ২২৮টিরও বেশি স্থাপনা

জেনারেল আকরামনিয়ার ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি পয়েন্টে মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। আকরামনিয়া জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটিই আগের মতো অভিযান পরিচালনার অবস্থানে নেই। এসবের মধ্যে বেশ কিছু স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থবিরতা

  • মার্কিন বাহিনীকে এখন যুদ্ধজাহাজের জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে নির্ভর করতে হচ্ছে।
  • ইরানি সামরিক মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, তারা কখনোই এই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের সামরিক নেটওয়ার্ক পুনরায় গড়ে তুলতে দেবেন না।
  • তবে ইরানের এই চাঞ্চল্যকর দাবি এবং মার্কিন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি বা কার্যক্ষমতার অবনতি নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ঘাঁটিগুলো এখন কেবল নামেই টিকে আছে। কৌশলগত এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ইরানের কঠোর অবস্থানে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের নীরবতা রহস্য তৈরি করেছে যে, তারা তাদের এই ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব কীভাবে সামাল দিচ্ছে বা ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে।