পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারেও তিনি কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আজ রাতে সচিবালয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সরকার শ্রমিকদের দাবি ও কল্যাণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার চায় এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হোক এবং রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাক।
মজুরি বোর্ড গঠন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের বিধান থাকলেও সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই উদ্যোগ নিয়েছে।
মালিকপক্ষ নিজেদের প্রতিনিধিদের নাম দ্রুত দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নাম পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়। গতকাল রাতে নাম পাওয়ার পর আজ সকালেই বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই বোর্ড মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের সম্মানজনক জীবনযাপন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি নির্ধারণ করবে।
সহিংস আন্দোলনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, মজুরি নির্ধারণের আলোচনার পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় নেমে সহিংসতা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আন্দোলনের আড়ালে পুলিশের গাড়িতে আগুন, হামলা, যানবাহন ভাঙচুর এবং কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে যে, নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে একটি পক্ষ উসকানি দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের রপ্তানি শিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। যারা এসব সহিংসতায় জড়িত বা উসকানিদাতা, তাদের কঠোরভাবে দমন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করবে।
বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালিকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে। যদি কোনো কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে, তবে দ্রুত তা খোলার উদ্যোগ নিতে হবে। মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই শিল্পের সংকট নিরসন সম্ভব।
উল্লেখ্য, বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।




















