3:20 pm, Monday, 2 November 2026

৩০ বছর পূর্তিতে আল জাজিরার আয়োজনে আমীর শেখ তামিম

‘গল্পের পথচলা অব্যাহত’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক তাদের গৌরবময় ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। গত সন্ধ্যায় কাতারের দোহায় অবস্থিত নেটওয়ার্কটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে আমীর আল জাজিরার তিন দশকের দীর্ঘ ইতিহাস, অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নিয়ে তৈরি একটি বিশেষ ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এছাড়া নেটওয়ার্কটির প্রতিষ্ঠাতা ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশ্ব গণমাধ্যমে আল জাজিরার ঐতিহাসিক প্রভাব নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে আমীর নেটওয়ার্কের নতুন ডিজিটাল স্টুডিও এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত নিউজ রুম পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁকে সম্প্রচারে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী, আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান শেখ হামাদ বিন সামের আল-থানী, ডিরেক্টর জেনারেল শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল-থানীসহ দেশি-বিদেশি মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৬ সালে ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর হাত ধরে মাত্র ৬ ঘণ্টার সম্প্রচার দিয়ে যাত্রা শুরু করা আল জাজিরা আজ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণমাধ্যম। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি পরিবারে এর সংবাদ পৌঁছে যায়। নেটওয়ার্কটির ৭০টিরও বেশি ব্যুরোর অধীনে ৯৫টি দেশের প্রায় ৩,০০০ সংবাদকর্মী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২০ লাখ অনুসারী রয়েছে। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি (৪৩০ মিলিয়ন) পরিবারে পৌঁছে যায় আল জাজিরা। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২০ লাখ (৫২ মিলিয়ন) অনুসারী রয়েছে।

সাংবাদিকতার কঠিন পথচলায় ২০০১ সালে কাবুল ও ২০০৩ সালে বাগদাদে কার্যালয়ে হামলার পরও আল জাজিরা সাহসী অবস্থানে অটল ছিল। আরব বসন্তের কভারেজের জন্য চ্যানেলটি মর্যাদাপূর্ণ পীবডি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৪ জনেরও বেশি সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০২২ সালে জেনিনে নিহত শিরিন আবু আকলেহ এবং ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আনাস আল-শরীফ অন্যতম। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ডিজিটাল চ্যানেল ‘আল জাজিরা নাও’ এবং ৩০টিরও বেশি নতুন অনুষ্ঠান চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বিপ্লব ও সম্মাননা: ২০০১ সালে কাবুল ও ২০০৩ সালে বাগদাদে আল জাজিরার কার্যালয়ে হামলা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাহসী সাংবাদিকতা থামায়নি। ২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’-এর কভারেজের জন্য চ্যানেলটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পীবডি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 07:38:46 am, Monday, 2 November 2026

৩০ বছর পূর্তিতে আল জাজিরার আয়োজনে আমীর শেখ তামিম

Update Time : 07:38:46 am, Monday, 2 November 2026

‘গল্পের পথচলা অব্যাহত’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক তাদের গৌরবময় ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। গত সন্ধ্যায় কাতারের দোহায় অবস্থিত নেটওয়ার্কটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে আমীর আল জাজিরার তিন দশকের দীর্ঘ ইতিহাস, অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নিয়ে তৈরি একটি বিশেষ ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এছাড়া নেটওয়ার্কটির প্রতিষ্ঠাতা ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশ্ব গণমাধ্যমে আল জাজিরার ঐতিহাসিক প্রভাব নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে আমীর নেটওয়ার্কের নতুন ডিজিটাল স্টুডিও এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত নিউজ রুম পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁকে সম্প্রচারে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী, আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান শেখ হামাদ বিন সামের আল-থানী, ডিরেক্টর জেনারেল শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল-থানীসহ দেশি-বিদেশি মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৬ সালে ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর হাত ধরে মাত্র ৬ ঘণ্টার সম্প্রচার দিয়ে যাত্রা শুরু করা আল জাজিরা আজ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণমাধ্যম। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি পরিবারে এর সংবাদ পৌঁছে যায়। নেটওয়ার্কটির ৭০টিরও বেশি ব্যুরোর অধীনে ৯৫টি দেশের প্রায় ৩,০০০ সংবাদকর্মী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২০ লাখ অনুসারী রয়েছে। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি (৪৩০ মিলিয়ন) পরিবারে পৌঁছে যায় আল জাজিরা। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২০ লাখ (৫২ মিলিয়ন) অনুসারী রয়েছে।

সাংবাদিকতার কঠিন পথচলায় ২০০১ সালে কাবুল ও ২০০৩ সালে বাগদাদে কার্যালয়ে হামলার পরও আল জাজিরা সাহসী অবস্থানে অটল ছিল। আরব বসন্তের কভারেজের জন্য চ্যানেলটি মর্যাদাপূর্ণ পীবডি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৪ জনেরও বেশি সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০২২ সালে জেনিনে নিহত শিরিন আবু আকলেহ এবং ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আনাস আল-শরীফ অন্যতম। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ডিজিটাল চ্যানেল ‘আল জাজিরা নাও’ এবং ৩০টিরও বেশি নতুন অনুষ্ঠান চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বিপ্লব ও সম্মাননা: ২০০১ সালে কাবুল ও ২০০৩ সালে বাগদাদে আল জাজিরার কার্যালয়ে হামলা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাহসী সাংবাদিকতা থামায়নি। ২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’-এর কভারেজের জন্য চ্যানেলটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পীবডি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে।