ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর পথে এখনো বড় বাধা এফএএ মর্যাদা
ঢাকা থেকে সরাসরি নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট চালুর প্রত্যাশা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে এই রুট চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাবে না। নতুন করে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন হলেও এই রুটের অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
ফ্লাইট পরিচালনার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো এফএএ-এর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মূল্যায়ন কর্মসূচিতে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন। বর্তমানে বাংলাদেশ এই মর্যাদায় নেই, যার ফলে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। ২০০৬ সালে লোকসানের মুখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এই রুটের ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করে। একই সময় এফএএ-এর মূল্যায়নে বাংলাদেশের মর্যাদা অবনমিত হয়ে ক্যাটাগরি-২-এ চলে যায়। প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও দেশ সেই মর্যাদা ফিরে পায়নি।
ফ্লাইট বন্ধ থাকার ফলে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বিমানের পুরনো স্লটগুলোও হারিয়ে গেছে, যা নতুন করে পাওয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন, যার মধ্যে নিউইয়র্কেই দুই লাখের বেশি প্রবাসীর বাস। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় তাদের অন্য দেশের এয়ারলাইন্স ব্যবহার করে ট্রানজিটসহ প্রায় ২৫ ঘণ্টা ভ্রমণ করতে হয়।
ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পেতে বাংলাদেশকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) পৃথক মূল্যায়নে সফল হতে হবে। বর্তমানে ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইকাওর অডিট কার্যক্রম চলছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে এক বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এই রুট চালুর প্রক্রিয়ায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল উড়োজাহাজ কেনা বা অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; এর জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা তদারকি জোরদার এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিকভাবে মেক্সিকো, থাইল্যান্ড ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে এই মর্যাদা অর্জন করেছে। তাই বাংলাদেশের জন্যও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। এসব নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত আগামী বছর নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















