দক্ষিণ লেবাননে পাহাড় কেটে সড়ক বানাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী
দক্ষিণ লেবাননের পাহাড় এবং উপত্যকা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সড়ক নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-এর বরাত দিয়ে আনাদলু এজেন্সি জানায়, দেশটির পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এই নির্মাণযজ্ঞ চলছে। মূলত দখলকৃত লেবানিজ ভূখণ্ডে ইসরাইলি সেনাদের সামরিক অবস্থানগুলোকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। এসব সড়কের মাধ্যমে দখল করা লেবাননের ভূখণ্ডে স্থাপিত সামরিক অবস্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে দখলদাররা। এর পরই ইসরাইলি বাহিনীর নতুন এই তৎপরতার খবর সামনে এলো।
সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ওইসব এলাকায় লেবানিজ স্থাপনা ধ্বংসের অভিযানও অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। এর মধ্যে মধ্যাঞ্চলের আইতা আল-শাব, মারুন আল-রাস, বিনত জবেইল ও আইতারুন শহরগুলো অন্যতম। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের নাকুরা, ইয়ারিন, ধাইরা, মারওয়াহিন ও আলমা আল-শাব এলাকায়ও এই তৎপরতা দৃশ্যমান। এই এলাকাগুলোতে লেবানিজ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউনিফিল মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে মারুন আল-রাস থেকে সীমান্তের ওপারে ইসরাইলের আভিভিম বসতি দেখা যায়।
ফ্লোরিডার টাম্পায় গত ২০ ও ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক ও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরপরই এই অগ্রগতির খবর এল। যদিও সেই আলোচনা কোনো দৃশ্যমান ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ না হলেও, পরবর্তীতে আলোচনার ধারা বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মতি জানিয়েছিল। তবে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
এর আগে জুন মাসে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ওই অঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন ও সশস্ত্র গোষ্ঠীদের নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি উপেক্ষা করেই ইসরাইল তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দশ লাখের বেশি মানুষ। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

















