যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পথে ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। চার বছর পর বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি পুনরায় এই নিম্নকক্ষের ক্ষমতা নিজেদের দখলে নিতে যাচ্ছে। সিবিএস নিউজের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি আসনে বিজয়ী হতে চলেছে। বিপরীতে রিপাবলিকান পার্টি অন্তত ১৬০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার আয়োজিত এই নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হিসাব থেকে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩৫ আসনবিশিষ্ট প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ঠিক ২১৮টি আসনের প্রয়োজন হয়। ফলে সিবিএস নিউজের এই আভাস সত্যি হলে ডেমোক্র্যাটদের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।
তবে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ সিনেটের ক্ষেত্রে কার আধিপত্য থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি অতিরিক্ত আসন নিজেদের ঝুলিতে পুরতে হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় গুরুত্বপূর্ণ দুটি রিপাবলিকান আসন এরই মধ্যে ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এর মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে। পাশাপাশি সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে জয় হাসিল করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কার্যভার গ্রহণের দুই বছর পর আয়োজিত এ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে মূলতঃ প্রেসিডেন্টের নীতি ও জনপ্রিয়তার ওপর জনমতের এক ধরনের বড় পরীক্ষা বলে ধরে নেওয়া হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, জ্বালানি তেলের দর এবং ইরানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা যুদ্ধ পরিস্থিতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে মূল ভূমিকা রেখেছে।
ভোট প্রদান শেষে রয়টার্সের পরিচালিত বুথফেরত জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের বর্তমান সামগ্রিক গতিপথ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। জরিপের আরও ৭০ শতাংশ ভোটারের অভিমত, প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা আবশ্যক।
এই নির্বাচনের পূর্বে ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ২১৯টি আসন, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের হাতে ছিল ২১৪টি আসন এবং দুটি আসন শূন্য অবস্থায় ছিল। অন্যদিকে ১০০ সদস্যের সিনেটে শাসক দল রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ছিল ৫৩টি। ডেমোক্র্যাট ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে সিনেটে আসন ধরে রেখেছিলেন ৪৭টি।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে আইন তৈরির ক্ষমতার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ পাবে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো সরকারি কর্মকাণ্ড তদন্তের আইনি এক্তিয়ার অর্জিত হবে তাদের। সিনেটেও যদি শেষ পর্যন্ত তারা জয়ী হতে পারে, তবে প্রেসিডেন্টের মনোনীত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও বিচারপতি পদের অনুমোদনে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুবিধা পাবে।
সিনেটে শেষ পর্যন্ত কারা রাজত্ব করবে তা জানতে মেইন, মিশিগান, আলাস্কা, টেক্সাস, ওহাইও ও আইওয়ার ফলাফলের দিকে নজর রাখতে হচ্ছে। নিম্নকক্ষে জয় পাওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাটরা যেমন রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করল, তেমনি ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ দুই বছরের প্রশাসনে এর গভীর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল শুধু ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনীতিতেই নয়, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরেও প্রভাব ফেলতে পারে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত অবস্থান দলটির জন্য রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।



















