সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি ৭ বাংলাদেশির স্বদেশে প্রত্যাবর্তন শনিবার
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো অবশিষ্ট সাতজন বাংলাদেশি শ্রমিকের অবশিষ্টাংশ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-৩৩৬’ ফ্লাইটটি শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট রিয়াদে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগলে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মারা যান। ঘটনার পর প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট নয়জনের কফিন স্বজনদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে বাকি সাতজনের অবশিষ্টাংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করে তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের মরদেহ দেশে ফেরার খবরে পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের পাশাপাশি অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় মরদেহগুলো জেদ্দা থেকে ঢাকায় আনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
পরিচয় মিললেও বিমান চলাচলে জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সড়কপথে তাঁদের দেহ প্রথমে জেদ্দায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিচয় শনাক্ত ও পরিবহন প্রক্রিয়া শেষ করতে আড়াই মাসের বেশি সময় লেগেছে।
শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলার মো. শাহিন এবং আত্রাই উপজেলার মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব ও মো. সাগর আলী রয়েছেন। অপর দুজন হলেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন। শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানটি পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উপস্থিত স্বজন ও তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধিদের হাতে কফিনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।




















