3:10 pm, Wednesday, 16 September 2026

মহাকাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি, বিশেষ অস্ত্র মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে এবার মহাশূন্যের অসীম শূন্যতাও পরোক্ষভাবে আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে রূপ নিতে শুরু করেছে। মহাকাশকে নিজেদের সামরিক বলয়ের অন্তর্ভুক্ত করে সেখানে আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানান, পৃথিবীর কক্ষপথে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ ধরনের কিছু অস্ত্র মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন ট্রয় মেইঙ্ক। তিনি জানান, মহাকাশে বৈরী দেশগুলোর যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ থেকে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করা এবং বিশ্বজুড়ে পরিবর্তনশীল সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্যই এই গোপন অস্ত্র মোতায়েন ছিল অপরিহার্য। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এই অস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট কার্যক্ষমতা বা এটি কবে নাগাদ কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতাকে দায়ী করছে পেন্টাগন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধাবস্থায় শত্রুপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, নজরদারি এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি তৈরি করছে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর ও আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েনকে এখন প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

যদিও ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী মহাকাশে পারমাণবিক গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ, তবুও প্রচলিত স্যাটেলাইটবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর নবীন শাখা ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মহাকাশে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের শক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করতে তাদের জয়েন্ট কমান্ড এখন আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিতেই পুরোপুরি প্রস্তুত।

মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই দৌড় এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কয়েক দিনে ট্রাম্পের চাঁদের মালিকানা দাবি নিয়ে বিতর্ক, সান ডিয়েগোর এয়ারপোর্টে বিমান দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের মতো ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। একইসঙ্গে শহীদ দুই সেনা সদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের এই নজিরবিহীন ঘটনা বিশ্ব নিরাপত্তার সমীকরণকে নতুন করে জটিল করে তুলছে। একদিকে যেমন যুদ্ধের নতুন ফ্রন্টলাইন তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে স্যাটেলাইটভিত্তিক বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তাও এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ। চাকরির আরও তথ্য: কর্মী ভিসায় নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, চাকরি গেলেই বিপদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Update Time : 11:34:48 am, Tuesday, 15 September 2026
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

মহাকাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি, বিশেষ অস্ত্র মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : 11:34:48 am, Tuesday, 15 September 2026

পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে এবার মহাশূন্যের অসীম শূন্যতাও পরোক্ষভাবে আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে রূপ নিতে শুরু করেছে। মহাকাশকে নিজেদের সামরিক বলয়ের অন্তর্ভুক্ত করে সেখানে আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানান, পৃথিবীর কক্ষপথে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ ধরনের কিছু অস্ত্র মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন ট্রয় মেইঙ্ক। তিনি জানান, মহাকাশে বৈরী দেশগুলোর যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ থেকে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করা এবং বিশ্বজুড়ে পরিবর্তনশীল সামরিক ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্যই এই গোপন অস্ত্র মোতায়েন ছিল অপরিহার্য। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এই অস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট কার্যক্ষমতা বা এটি কবে নাগাদ কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতাকে দায়ী করছে পেন্টাগন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধাবস্থায় শত্রুপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, নজরদারি এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি তৈরি করছে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর ও আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েনকে এখন প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

যদিও ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী মহাকাশে পারমাণবিক গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ, তবুও প্রচলিত স্যাটেলাইটবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর নবীন শাখা ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মহাকাশে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের শক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করতে তাদের জয়েন্ট কমান্ড এখন আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিতেই পুরোপুরি প্রস্তুত।

মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই দৌড় এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কয়েক দিনে ট্রাম্পের চাঁদের মালিকানা দাবি নিয়ে বিতর্ক, সান ডিয়েগোর এয়ারপোর্টে বিমান দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের মতো ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। একইসঙ্গে শহীদ দুই সেনা সদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের এই নজিরবিহীন ঘটনা বিশ্ব নিরাপত্তার সমীকরণকে নতুন করে জটিল করে তুলছে। একদিকে যেমন যুদ্ধের নতুন ফ্রন্টলাইন তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে স্যাটেলাইটভিত্তিক বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তাও এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ। চাকরির আরও তথ্য: কর্মী ভিসায় নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, চাকরি গেলেই বিপদ।