1:06 pm, Saturday, 5 September 2026

২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা ঘিরে কুয়াকাটায় ভিড়, বিক্রি ৪০ হাজার টাকায়

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইয়েলোফিন টুনা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মাছটি কুয়াকাটা মাছ বাজারের মনি ফিস মৎস্য আড়তে বিক্রির জন্য আনা হলে সেটি দেখতে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই কুয়াকাটা সংলগ্ন পায়রা বন্দরের মূল চ্যানেলের কাছাকাছি মাছ ধরার সময় এফবি সজিব নামের একটি ট্রলারের জালে টুনা মাছটি ধরা পড়ে। পরে ট্রলারের মাঝি জীবন মাঝি মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মাছ বাজারে নিয়ে আসেন। বাজারে এত বড় টুনা মাছ দেখে স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকেই জানান, কুয়াকাটা এলাকায় এর আগে এত বড় ইয়েলোফিন টুনা মাছ বিক্রির জন্য আসতে দেখেননি তারা।

মাছ কিনতে আসা বেলাল হোসেন বলেন, এত বড় টুনা মাছ এর আগে আমরা কখনো দেখিনি। সত্যিই এটি ব্যতিক্রমী একটি মাছ।

মনি ফিস মৎস্য আড়তের ম্যানেজার মিজান বলেন, উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে মাছটি প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছটির মোট দাম উঠেছে ৪০ হাজার ৪৬০ টাকা। তাঁদের আড়তে এর আগে এত বড় টুনা মাছ বিক্রি হয়নি বলেও জানান তিনি।

মাছটি কিনেছেন কুয়াকাটা মাছ বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল। তিনি বলেন, এটি উন্নত মানের ইয়েলোফিন টুনা। বাজারে এ মাছের ভালো চাহিদা রয়েছে। আশা করছি, লাভজনক দামে বিক্রি করতে পারব।

এফবি সজিব ট্রলারের মাঝি জীবন মাঝি বলেন, তিন দিন আগে আমরা মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যাই। গত পরশু পায়রা বন্দরের মূল চ্যানেলের কাছাকাছি জাল ফেলতেই এই বিশাল টুনা মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ ছাড়া এবার আরও কয়েকটি বড় আকারের সামুদ্রিক মাছও পেয়েছি।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত WCS ও ওয়ার্ল্ডফিশের ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (Thunnus albacares) একটি বৃহৎ আকারের পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে বাংলাদেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছ পাওয়া যায়।

বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, বিশ্ববাজারে ইয়েলোফিন টুনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাছটি উচ্চমানের প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এই মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে টেকসই আহরণ ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলের দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক একটি মাছ প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের হতে পারে। অনুকূল পরিবেশে এ মাছ উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে সাঁতার কাটতে সক্ষম এই মাছ।

Tag :

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার ৩ শতাংশ, কিশোরও জড়াচ্ছে ধর্ষণে, বাড়ছে উদ্বেগ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা ঘিরে কুয়াকাটায় ভিড়, বিক্রি ৪০ হাজার টাকায়

Update Time : 08:32:33 am, Friday, 31 July 2026

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইয়েলোফিন টুনা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মাছটি কুয়াকাটা মাছ বাজারের মনি ফিস মৎস্য আড়তে বিক্রির জন্য আনা হলে সেটি দেখতে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই কুয়াকাটা সংলগ্ন পায়রা বন্দরের মূল চ্যানেলের কাছাকাছি মাছ ধরার সময় এফবি সজিব নামের একটি ট্রলারের জালে টুনা মাছটি ধরা পড়ে। পরে ট্রলারের মাঝি জীবন মাঝি মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মাছ বাজারে নিয়ে আসেন। বাজারে এত বড় টুনা মাছ দেখে স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকেই জানান, কুয়াকাটা এলাকায় এর আগে এত বড় ইয়েলোফিন টুনা মাছ বিক্রির জন্য আসতে দেখেননি তারা।

মাছ কিনতে আসা বেলাল হোসেন বলেন, এত বড় টুনা মাছ এর আগে আমরা কখনো দেখিনি। সত্যিই এটি ব্যতিক্রমী একটি মাছ।

মনি ফিস মৎস্য আড়তের ম্যানেজার মিজান বলেন, উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে মাছটি প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছটির মোট দাম উঠেছে ৪০ হাজার ৪৬০ টাকা। তাঁদের আড়তে এর আগে এত বড় টুনা মাছ বিক্রি হয়নি বলেও জানান তিনি।

মাছটি কিনেছেন কুয়াকাটা মাছ বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল। তিনি বলেন, এটি উন্নত মানের ইয়েলোফিন টুনা। বাজারে এ মাছের ভালো চাহিদা রয়েছে। আশা করছি, লাভজনক দামে বিক্রি করতে পারব।

এফবি সজিব ট্রলারের মাঝি জীবন মাঝি বলেন, তিন দিন আগে আমরা মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যাই। গত পরশু পায়রা বন্দরের মূল চ্যানেলের কাছাকাছি জাল ফেলতেই এই বিশাল টুনা মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ ছাড়া এবার আরও কয়েকটি বড় আকারের সামুদ্রিক মাছও পেয়েছি।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত WCS ও ওয়ার্ল্ডফিশের ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (Thunnus albacares) একটি বৃহৎ আকারের পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে বাংলাদেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছ পাওয়া যায়।

বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, বিশ্ববাজারে ইয়েলোফিন টুনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাছটি উচ্চমানের প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এই মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে টেকসই আহরণ ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলের দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক একটি মাছ প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের হতে পারে। অনুকূল পরিবেশে এ মাছ উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে সাঁতার কাটতে সক্ষম এই মাছ।