12:37 pm, Monday, 31 August 2026

অস্ত্র রফতানি বাড়াতে বড় প্রস্তুতি পাকিস্তানের

দেশীয়ভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিরক্ষা পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে আরও দুটি নতুন শিল্পকারখানা চালু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কারখানা দুটিতে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও দেশটির চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ওয়াহ শহরে অবস্থিত পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ (পিওএফ) পরিদর্শন করেন।

এ সময় তাকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা, রফতানির সম্ভাবনা এবং পাকিস্তানের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পে এর অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, মুনিরের এই সফর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা, দেশীয় উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সামরিক নেতৃত্বের অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে।

নতুন দুই কারখানায় কী তৈরি হবে, জানায়নি পাকিস্তান
পরিদর্শনের সময় সেনাপ্রধানকে নতুন দুটি উৎপাদন কারখানা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও স্থানীয়করণ ও আধুনিকায়নের চলমান উদ্যোগের অংশ।

তবে নতুন কারখানা দুটিতে কোন ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে কিংবা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা কত—এসব বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।

ওয়াহ শহরের পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন করে। আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের তৈরি সামরিক সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসলামাবাদ।

বাড়ছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা রফতানির চেষ্টা
দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নতুন কারখানা দুটি চালু করা হচ্ছে। পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে গোলাবারুদ, ড্রোন, প্রশিক্ষণ বিমান থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জামের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।

গত জানুয়ারিতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ১৩টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছিল। এর মধ্যে ছয় থেকে আটটি দেশের সঙ্গে আলোচনা তখন বেশ অগ্রসর পর্যায়ে ছিল।

আলোচনায় পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান, মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান, পাকিস্তানে তৈরি ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সাঁজোয়া যান বিক্রির বিষয় ছিল।

পাকিস্তান মনে করছে, নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারলে একদিকে দেশের সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে বিদেশি বাজারে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়বে।

প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ
মুনিরের সফরের সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়েও তাকে অবহিত করা হয়। বিশেষ করে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজের করপোরেট কাঠামোয় রূপান্তর এবং নতুন একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের বিষয় তুলে ধরা হয়।

চলতি বছর পাকিস্তান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (ডিপ্রা) নামে একটি নতুন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতকে পুনর্গঠন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

জুনে জারি করা ডিপ্রা অধ্যাদেশের আওতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এবং রফতানির বড় উৎসে পরিণত করতে চাইছে।

স্থানীয় অস্ত্রের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করলেন মুনির
পরিদর্শনকালে আসিম মুনির পাকিস্তানে নকশা করা ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরীক্ষা ও ট্রায়ালও প্রত্যক্ষ করেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

সামরিক বাহিনী বলছে, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উদ্ভাবন বাড়াবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের তৈরি সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বাড়ানোর পথও তৈরি করবে।

নতুন দুটি কারখানায় বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু হলে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা কতটা বাড়বে, তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ—এই তিন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ইসলামাবাদের প্রচেষ্টায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আরব নিউজ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে মির্জা ফখরুলের জায়গায় সালাহউদ্দিন আহমদ—কী হতে যাচ্ছে?

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

অস্ত্র রফতানি বাড়াতে বড় প্রস্তুতি পাকিস্তানের

Update Time : 07:48:10 am, Sunday, 30 August 2026

দেশীয়ভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিরক্ষা পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে আরও দুটি নতুন শিল্পকারখানা চালু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কারখানা দুটিতে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও দেশটির চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ওয়াহ শহরে অবস্থিত পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ (পিওএফ) পরিদর্শন করেন।

এ সময় তাকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা, রফতানির সম্ভাবনা এবং পাকিস্তানের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পে এর অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, মুনিরের এই সফর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা, দেশীয় উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সামরিক নেতৃত্বের অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে।

নতুন দুই কারখানায় কী তৈরি হবে, জানায়নি পাকিস্তান
পরিদর্শনের সময় সেনাপ্রধানকে নতুন দুটি উৎপাদন কারখানা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও স্থানীয়করণ ও আধুনিকায়নের চলমান উদ্যোগের অংশ।

তবে নতুন কারখানা দুটিতে কোন ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে কিংবা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা কত—এসব বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।

ওয়াহ শহরের পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন করে। আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের তৈরি সামরিক সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসলামাবাদ।

বাড়ছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা রফতানির চেষ্টা
দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নতুন কারখানা দুটি চালু করা হচ্ছে। পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে গোলাবারুদ, ড্রোন, প্রশিক্ষণ বিমান থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জামের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।

গত জানুয়ারিতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ১৩টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছিল। এর মধ্যে ছয় থেকে আটটি দেশের সঙ্গে আলোচনা তখন বেশ অগ্রসর পর্যায়ে ছিল।

আলোচনায় পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান, মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান, পাকিস্তানে তৈরি ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সাঁজোয়া যান বিক্রির বিষয় ছিল।

পাকিস্তান মনে করছে, নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারলে একদিকে দেশের সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে বিদেশি বাজারে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়বে।

প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ
মুনিরের সফরের সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়েও তাকে অবহিত করা হয়। বিশেষ করে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজের করপোরেট কাঠামোয় রূপান্তর এবং নতুন একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের বিষয় তুলে ধরা হয়।

চলতি বছর পাকিস্তান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (ডিপ্রা) নামে একটি নতুন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতকে পুনর্গঠন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

জুনে জারি করা ডিপ্রা অধ্যাদেশের আওতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এবং রফতানির বড় উৎসে পরিণত করতে চাইছে।

স্থানীয় অস্ত্রের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করলেন মুনির
পরিদর্শনকালে আসিম মুনির পাকিস্তানে নকশা করা ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরীক্ষা ও ট্রায়ালও প্রত্যক্ষ করেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

সামরিক বাহিনী বলছে, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উদ্ভাবন বাড়াবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের তৈরি সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বাড়ানোর পথও তৈরি করবে।

নতুন দুটি কারখানায় বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু হলে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা কতটা বাড়বে, তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ—এই তিন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ইসলামাবাদের প্রচেষ্টায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আরব নিউজ