দক্ষিণ আফ্রিকার পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক সার্ডিন মৃত বা মুমূর্ষু অবস্থায় ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধান করছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। এসব মাছের দেহে শনাক্ত হওয়া একটি হার্পিভাইরাসই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চলতি মাসে সার্ডিনের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বের করতে পারেনি দেশটির বন, মৎস্য ও পরিবেশ বিভাগ। তবে বিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্র উপকূলের সার্ডিনের দেহে প্রথমবারের মতো পিলচার্ড হার্পিভাইরাস (পিএইচভি) শনাক্ত হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ায় সার্ডিনের দুটি বড় ধরনের গণমৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে পিএইচভির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল। ভাইরাসটি সার্ডিনের ফুলকায় প্রদাহ ও পুরুত্ব তৈরি করতে পারে। ফলে মাছের অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা ব্যাহত হয়।
সার্ডিন ও পিলচার্ড মূলত একই ধরনের মাছ। বয়স ও আকারের দিক থেকে তুলনামূলক ছোট ও কম বয়সী মাছকে সাধারণত সার্ডিন বলা হয়।
পরিবেশ বিভাগ জানিয়েছে, পিএইচভি একটি মাছবাহিত ভাইরাস এবং এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো পরিচিত ঝুঁকি তৈরি করে না। ফলে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে বাণিজ্যিকভাবে ধরা সুস্থ সার্ডিন কিংবা ক্যানজাত সার্ডিন খাওয়া অনিরাপদ।
আক্রান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা কয়েক ডজন সার্ডিন—যার মধ্যে মৃত ও জীবিত উভয় মাছই রয়েছে—পরীক্ষা করছেন সাউথ আফ্রিকান ইনস্টিটিউট ফর অ্যাকুয়াটিক বায়োডাইভারসিটি এবং স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।
পরিবেশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় গণমৃত্যুর ঘটনায় সংগ্রহ করা মৃত মাছগুলোর দেহে ধারাবাহিকভাবে উচ্চমাত্রায় পিএইচভি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, পরীক্ষিত জীবিত মাছগুলোর মধ্যে ভাইরাসটির উপস্থিতির মাত্রা ছিল ভিন্ন ভিন্ন।
তবে সার্ডিনের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। সমুদ্রে ক্ষতিকর শৈবালের উপস্থিতি, অস্বাভাবিক ঠান্ডা পানির তাপমাত্রা কিংবা পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি মাছগুলোর মৃত্যুর কারণ হতে পারে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পরিবেশ বিভাগ বলেছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণগুলো ক্রমেই পিএইচভি ভাইরাসকেই সার্ডিনের ব্যাপক মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে নির্দেশ করছে।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ডালেন ভোসলোর মতে, শুধু হার্পিভাইরাস দিয়ে এই মৃত্যুর পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করা নাও যেতে পারে। তদন্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন ভোসলোর ভাষ্য, একাধিক কারণ মিলেও এই ব্যাপক মাছের মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, পানির গুণমান বা তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে মাছ রোগের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। সূত্র: এপি নিউজ।
Reporter Name 










