3:57 am, Sunday, 2 August 2026

১২ বছরের সেই শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মাদরাসা শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার ১২ বছরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সেই শিশুর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে সেই নবজাতকের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের একটি সেফহোমে রয়েছে। 

মামলার মূল আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনা আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। সিআইডি ল্যাবের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মামলায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের সেফহোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার সিআইডি ল্যাবের একটি দল। এর আগে গত ১৭ মে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরেরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সব নমুনা বর্তমানে পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন পেলেই আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই বিকেলে শিশুটির প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ওই দিন দিবাগত রাত ১২টা দিকে সে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

মা ও নবজাতকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসাসেবা এবং স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন।

প্রসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহায়তায় তার নিয়মিত তদারকি করা হয়। প্রসব বেদনা উঠলে আমি নিজে গাইনি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করি এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় ওই শিশুর স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়।’

তবে প্রসবের পর মা ও শিশু দুজনের শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিভিল সার্জন বলেন, ‘একটি ১২ বছরের শিশুর সন্তান প্রসব করা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রসবের সময় বড় কোনো জটিলতা না হলেও মা ও নবজাতক দুজনই এখনও কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মায়ের বয়স অনেক কম এবং নবজাতকের ওজনও স্বাভাবিকের চেয়ে কম। এ ধরনের শিশুদের জন্ডিস, নিউমোনিয়া বা অপুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকে।’

বর্তমানে তাদের সার্বিক অবস্থা জানিয়ে তিনি জানান, হাসপাতালে তিন দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর মা ও নবজাতককে পুনরায় সেফহোমে পাঠানো হয়েছে এবং তারা এখন সিলেট সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল দলের সার্বিক নজরদারিতে রয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ উঠে, শিক্ষক সাগর একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করায় সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। আসামি গ্রেপ্তার হলে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং ১২ মে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সিলেটের একটি সেফহোমে পাঠানো হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ বছরের সেই শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

Update Time : 08:28:02 am, Friday, 31 July 2026

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মাদরাসা শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার ১২ বছরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সেই শিশুর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে সেই নবজাতকের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের একটি সেফহোমে রয়েছে। 

মামলার মূল আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনা আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। সিআইডি ল্যাবের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মামলায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের সেফহোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার সিআইডি ল্যাবের একটি দল। এর আগে গত ১৭ মে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরেরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সব নমুনা বর্তমানে পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন পেলেই আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই বিকেলে শিশুটির প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ওই দিন দিবাগত রাত ১২টা দিকে সে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

মা ও নবজাতকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসাসেবা এবং স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন।

প্রসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহায়তায় তার নিয়মিত তদারকি করা হয়। প্রসব বেদনা উঠলে আমি নিজে গাইনি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করি এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় ওই শিশুর স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়।’

তবে প্রসবের পর মা ও শিশু দুজনের শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিভিল সার্জন বলেন, ‘একটি ১২ বছরের শিশুর সন্তান প্রসব করা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রসবের সময় বড় কোনো জটিলতা না হলেও মা ও নবজাতক দুজনই এখনও কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মায়ের বয়স অনেক কম এবং নবজাতকের ওজনও স্বাভাবিকের চেয়ে কম। এ ধরনের শিশুদের জন্ডিস, নিউমোনিয়া বা অপুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকে।’

বর্তমানে তাদের সার্বিক অবস্থা জানিয়ে তিনি জানান, হাসপাতালে তিন দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর মা ও নবজাতককে পুনরায় সেফহোমে পাঠানো হয়েছে এবং তারা এখন সিলেট সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল দলের সার্বিক নজরদারিতে রয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ উঠে, শিক্ষক সাগর একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করায় সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। আসামি গ্রেপ্তার হলে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং ১২ মে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সিলেটের একটি সেফহোমে পাঠানো হয়।